শুক্রবার , 19 সেপ্টেম্বর 2014
ব্রেকিং নিউজ

টেকনাফে ট্রান্সফরমার লসের গ্যাড়াকলে পড়ে ৮ গ্রাহকের হয়রানী

ssssসাইদুর রহমান সোহেল, টেকনাফ: বিদ্যুৎ চোর ধরিয়ে দিতে গিয়ে ট্রান্সফরমার লস্ এর গ্যাড়াকলে পড়ে ৮ জন নিয়মিত গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারছেননা বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে লিখিত আবেদন ও বিদ্যুৎ চোরদের হাতেনাতে ধরার পরও কোন প্রতিকার না হওয়ায় একদিকে যেমন বিদ্যুৎ চুরি বাড়ছে, অন্যদিকে নিয়মিত গ্রাহক গণের হয়রানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সমস্যার কারণে ৮জন গ্রাহক গত ১ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা থেকে বিরত রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগাহছড়া গ্রামে। সরেজমিন পরিদর্শণে গিয়ে  জানা যায়, উক্ত গ্রামের নুর আহমদ হিসাব নং- ৩৯৫০, হোছন আহমদ হিসাব নং- ৩৭০০, এনামুল হক হিসাব নং- ২২১৫, আব্দুর রহমান হিসাব নং -৪০৫৫, আমির হামজা হিসাব নং – ৪০৫২, নুর হোসেন হিসাব নং -৪০৫০, আমিনা খাতুন হিসাব নং-২২২০, জহির আহমদ হিসাব নং -৩৭৫০ পল্লি বিদ্যুতের নিয়মিত গ্রাহক। ওই গ্রামের হাজ্বী আবুল বশর, শামসুননাহার, পারুল আক্তার, নসরত আলী, ফরিদ আহমদ, আব্্দুল জব্বার সওদাগর, আমির হোসেন, মীর আহমদ, কবির আহমদ ও জামাল হোসেন এ ১১ জন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ লাইনে হুকিং করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছে। উক্ত গ্রামের বাসিন্দা লম্বরী মলকাবানু হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল জানান, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের সাথে টেকনাফ পল্লি বিদুৎ অফিসের কতিপয় কর্মীদের যোগসাজস রয়েছে। ফলে গ্রামে বিদ্যুৎ চুরি রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এমনকি বিদুৎকর্মীদের এনে অবৈধভাবে বিদুৎ ব্যবহারকারীদের ধরিয়ে দেয়া ও পাম্প মেশিন উদ্ধার করা সত্তেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিদ্যুৎ চোরদের  দাপট ক্রমে বেড়েই চলছে। উপরন্তু অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ধরিয়ে দেয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে বৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের। এই অসহ্য হয়রানী থেকে প্রতিকার পেতে বৈধ গ্রাহকগণ গত ২১ আগস্ট ও ১৯ ডিসেম্বর দু’ দফায় লিখিতভাবে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জিএম কক্সবাজার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টেকনাফ, ডিজিএম ও টেকনাফ মডেল থানার ওসি বরাবর আবেদন করা সত্বেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বরং ট্রান্সফরমারের নীচে একটি অতিরিক্ত মিটার বসিয়ে দেয়া হয়েছে। এই মিটার রিডিং নিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিলগুলো বৈধ ব্যবহারকারীদের নামে বিলের সাথে প্রতিমাসে প্রায় ১ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত দাবী করা হচ্ছে। যার কারণে বিল পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি আক্ষেপ করে আরো জানান- অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পল্লি বিদুৎ সমিতিকে সহযোগীতা করতে গিয়ে বর্তমানে উভয় সংকটে পড়েছে বৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহকগণ। একদিকে বহাল তবিয়তে থাকা বিদ্যুৎ চোরদের টিটকারী অন্যদিকে ট্রান্সফরমার লসের নামে পল্লি বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল। ২১ জানুয়ারী বিকালে এব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ পল্লি বিদ্যুতের ডিজিএম জানান, বিদ্যুত চুরি বন্ধ করতে না পেরে  উক্ত মিটার লাগানো ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>