Teknaf News24:: টেকনাফ নিউজ২৪ এ আপনাকে স্বাগতম
সংবাদ শিরোনাম :
«» এ মাসেই এসএসসির ফল প্রকাশ, আগামী মাসে একাদশে ভর্তি কার্যক্রম শুরু «» অসহায় সেই ৭৩ বাবা-মাকে র‌্যাব কর্মকর্তার ‘ঈদ উপহার «» হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার ডাক পেলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল «» ৬৪ শতাংশ শিশুর পরিবার কঠিন খাদ্য সংকটে «» কোনো হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানো যাবে না «» বাহরাইনে সাধারণ ক্ষমার মেয়াদে অবৈধ অবস্থানকারীদের আটক করা হবে না «» বিশ্বের সবচেয়ে বড় দানবাক্স আরব আমিরাতে বুর্জ খলিফা! «» লাদাখ সীমান্তে চীনা হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান মোতায়েন ভারতের «» সিকিম সীমান্তে ভারত-চীন সেনাদের সংঘর্ষ «» দেখে নিন:এক নজরে কোন জেলায় কতজন করোনায় আক্রান্ত «» কাশ্মীর সীমান্তে উড়ছে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান, উদ্বিগ্ন ভারত «» অসহায় শিশু জয়নব কে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন «» মাঠে নেই বিত্তশালী মন্ত্রী এমপিরা «» করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১৪ মৃত্যু, একদিনে সর্বোচ্চ ৮৮৭ রোগী শনাক্ত «» করোনা চিকিৎসায় দেশে উৎপাদন হলো রেমডেসিভির «» টেকনাফের বাহারছড়ায় দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কে হত্যার চেষ্টা আটক -৩ :অধরায় মূল হোতা «» দশ দিনেই চিকিৎসার সাফল্য ৪র্থ রিপোর্টেও নেগেটিভ : তুমব্রুর সেই করোনার প্রথম রোগীর জয় «» সৌদিতে করোনায় আক্রান্ত ৩৭১৭ বাংলাদেশি, মৃত ৫৫ «» কারাগারে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে সৌদি রাজকন্যা «» আমাদের মতো বেকুব জনগণের বেঁচে থাকার দরকারইবা কী? «» চলছে মাগফিরাতের ১০দিন «» সোমালিয়ায় করোনার ত্রাণবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬ «» মধ্যপ্রাচ্যে করোনা ছড়িয়েছে ইরান! «» সবাই সরকারের প্রশংসা করলেও বিএনপি পারে না: তথ্যমন্ত্রী «» ৬ সপ্তাহে ১২ লাখ মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে বিএনপি «» বিশ্বে করোনা আক্রান্তের তালিকায় উর্ধ্বমুখী বাংলাদেশ «» একদিনে ৭৮৬ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১ «» ১০ মে খুলবে দোকানপাট ও শপিংমল «» নতুন মাত্রায় লকডাউন,১০ দিনের আরও সাধারণ ছুটি দিয়েছে সরকার «» কেরালায় ‘নৌকাবাড়ি’তে হচ্ছে আইসোলেশন ওয়ার্ড

করোনা পরবর্তী বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করবে কে ?

তানভীর আহমেদ::

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্র                                                                                                                                    সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে বিশ্ব পরাশক্তি হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটির বিশাল অর্থনীতি, বড় বাজার সারা বিশ্বকে শাসন করতে সাহায্য করেছে। এ ছাড়া কয়েক দশক ধরেই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে সেনা পাঠিয়ে কর্তৃত্ব জাহির করেছে। নাইন ইলেভেনের পর মধ্যপ্রাচ্যে সেনা আগ্রাসন করে যুক্তরাষ্ট্র বড় চাল দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী মনোভাবের বিপরীতে শীর্ষ সমরশক্তি ও অর্থব্যবস্থার দেশগুলো সব সময়ই চাপে ছিল। এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে পরাশক্তি মানা হয়। তবে একক পরাশক্তি আর বলা যায় না। গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করছে চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় তাদের অর্থ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাড়ছে বেকারত্ব। বিশ্ব অর্থনীতির নতুন মেরুকরণে অস্ত্রের চেয়ে শক্ত অর্থ ব্যবস্থা বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এখন যুদ্ধে মনোযোগ না দিয়ে সবাই যার যার অর্থনীতি শক্তিশালী করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছে।

যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে পারে এমন দেশের দেখা মিলছে। কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, চীন এখন নিজের চিন্তা করছে। যুক্তরাজ্য বিশ্ব নেতৃত্বের জায়গা থেকে অনেক আগেই পথ হারিয়েছে। রাশিয়ার সেই আগ্রাসী ভাব না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কীভাবে চাপে রাখতে হয় সেটা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দেখিয়ে দিচ্ছে। এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে যখন করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ তখনো একে ‘চীনাভাইরাস’ বলে পাত্তা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দম্ভ করে বলেছেন ‘বিশ্বের সেরা চিকিৎসা ব্যবস্থা তাদের। করোনা কিছুই করতে পারবে না। কয়েকটা ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে’। চীন মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠে। ইতালি ও স্পেন যখন করোনায় কাবু তখনো যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক হয়নি। নিউইয়র্ক দেশটির ব্যবসায়িক কেন্দ্র। সেই শহরকে লকডাউন করতে হলো। লাখ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেন। একের পর এক রাজ্য লকডাউন করতে হলো। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত, মৃত এখন যুক্তরাষ্ট্রে। হাসপাতালে জায়গা নেই। নার্স, চিকিৎসক সংকট। ওষুধ বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে। চীনের কাছ থেকে মাস্ক, চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে হচ্ছে। মৃত্যুর মিছিল এতটাই বড় যে মরদেহ পরিবহনের ব্যাগ কিনতে হচ্ছে তাদের। কবরস্থানে জায়গা না পেয়ে পার্কে গণকবর দিতে হচ্ছে তাদের। সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির চাকায় হাওয়া লাগানোর জন্য বলে আসছিলেন গবেষকরা। যুদ্ধ ব্যয় কমিয়ে সেদিকে নজর দেওয়ার তাগাদা দেওয়া হলেও অন্য দেশকে চাপে রেখে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। করোনায় এখন মিত্রদেশগুলো পিঠ বাঁচিয়ে চলছে। নিজ দেশের মানুষ বাঁচাতেই হিমশিম খাচ্ছে সবাই। ইতালি যখন করোনা লন্ডভন্ড তাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি কেউ। পুরো ইউরোপ করোনায় এলোমেলো হয়ে গেলেও কেউ কারও দিকে হাত বাড়ায়নি। চীনসহ বাইরের দেশগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর এমন আচরণ আগামী বিশ্ব নেতৃত্বের পরিবর্তনের বড় ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্রকে যারা পরাশক্তি ও বন্ধু ভেবে এতদিন তোয়াক্কা করে আসছিল তারাও টের পেল যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতাগুলো। করোনার সঙ্গে আদতে হেরেই বসেছে যুক্তরাষ্ট্র। পুরো বিশ্ব তাদের গণতান্ত্রিক ও নেতৃত্বের প্রশংসা করত। সেখানে বড় ব্যর্থতা তাদের ইমেজকে নড়বড়ে করে দিল।

 

বিশ্ব নেতৃত্বে আসতে পারে চীন

চীনের উহান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। ভাইরাসটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ঘরবন্দী রয়েছে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবাই এখন স্বেচ্ছায় ঘরবন্দী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ব যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে এত বড় দুর্যোগ আসেনি। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি অদৃশ্য একটি ভাইরাস পুরো বিশ্বকে এভাবে থমকে দিতে পারে। সমরশক্তির চেয়ে কার চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত ও সুশাসন কার্যকর সেসব নিয়ে আলোচনা বিশ্বজুড়ে। বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বিশ্ব নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেখানে সবার প্রথম নাম উঠছে চীনের।

করোনার লড়াই প্রথম একাই শুরু করে চীন। সারা বিশ্ব তাদের অস্থিরতা দেখছিল। করোনার সঙ্গে লড়াই হারতে থাকা চীন হয়ে ওঠে মৃত্যুপুরী। তবে সে লড়াইয়ে শেষ কথা বলেছে চীনের চিকিৎসাকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবায় জীবন বাজি রেখে লড়াকু সৈনিকরা। সঙ্গে যোগ দিয়েছিল দেশের সাধারণ জনগণ। রাতারাতি হাসপাতাল বানিয়ে ফেলা, সারা দেশ থেকে সেরা চিকিৎসাকর্মীরা এসে দল বেঁধে মানুষের চিকিৎসা করা, চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা, সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় কঠোরতা- এসবের যোগফল চীনকে দিয়েছে করোনাজয়ের স্বাদ। বহু প্রাণহানি ঘটলেও চীনকে এখন করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে সবচেয়ে সফল দেশগুলোর সঙ্গে রাখা হচ্ছে। শুরুর দিকে বুঝে উঠতে সময় নেওয়া ও তথ্য গোপন করায় চীনকে পশ্চিমারা যত দোষই দিক চীনের মডেল অনুসরণ করেই সবাই করোনাভাইরাসকে সামলানোর চেষ্টা করছে। চীন লকডাউন, টেস্ট, আইসোলেশন ও চিকিৎসার যে ফর্মুলা দিয়ে করোনাবধ করেছে সে পথেই হাঁটছে সবাই। আড়াই মাসের মাথায় করোনা নিয়ন্ত্রণ ও তিন মাসের পর করোনাকে হারিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়ে চীন এখন অনুকরনীয়। এখনো সে লড়াই পুরোপুরি না শেষ হলেও মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ও সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের হিসাবটা চীনের পক্ষেই রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের নানা সমালোচনার পরও চীন তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে। চীনের এই করোনাজয় পুরো বিশ্বের উল্টো চিত্র। বর্তমান পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের যে দেশগুলো ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে চায় তারা করোনায় ল-ভ হয়ে গেছে। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রকে মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে করোনা। তাদের শক্তিশালী অর্থনীতি, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থায় যে ফাঁক ছিল তা করোনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। করোনায় মৃত্যুর মিছিল থামাতে পারছে না তারা। এই অবস্থায় চীন ঘুরে দাঁড়িয়ে সারা বিশ্বে পাঠাচ্ছে চিকিৎসা সরঞ্জাম। যুক্তরাষ্ট্রের বড় অ্যান্টিবায়োটিকের বাজার চীনের দখলে। মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার, ওষুধ, খাবার পাঠাচ্ছে চীন। দেশে দেশে চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে দিয়েছে। চীন গত ত্রিশ বছরে বিশ্বের নানা প্রান্তে এই সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে চীন তার অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক শক্ত করে। সারা বিশ্বে তারা এই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। শত্রু মিত্র না খুঁজে, ছোট-বড় দেশ বিবেচনা না করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক বিস্তৃত করে চীন একাই বিশ্ব শাসনের অদৃশ্য জাল বুনে রেখেছে। সে জালে বাদ যায়নি কেউ। এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউরোপ সবখানেই নানা দেশে তারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। করোনার সময়ও তারা দেশে দেশে      চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়ে সে সম্পর্ক আরও মজবুত করেছে। মানবিকভাবে চীন বহু দেশকে অর্থ সহযোগিতা করেছে বিগত দশকে। সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়ার মতো সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যে কারণে চীন ও তার মিত্রদেশগুলোকে চাপে রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে চীনকে নাড়াতে না পারলে সে আশায় গুড়েবালি। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস পুরো বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ঝাঁকুনি দিয়েছে। চীনের করোনায় সামলে ওঠা, বিশ্বজুড়ে বন্ধুত্বপরায়ণ মনোভাব, দেশে দেশে সহযোগিতা, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে আগামীর বিশ্ব নেতৃত্ব তাদের হাতেই আসতে পারে।

 

নতুন ভূমিকায় আসতে পারে উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া এককভাবে বিশ্ব পরাশক্তি না হলেও বিশ্ব রাজনীতিতে তাদের মনোভাব ও কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে আলোচিত। পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধ করার কারণেই দেশটি বিশ্ব মিডিয়ার নজর কাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বিরোধ যুদ্ধাবস্থা তৈরি করেছে বারবার। দুই পক্ষের কঠোর হুঁশিয়ারি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেধে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে উত্তর কোরিয়াকে যেমন হুমকি দিয়েছে তেমনি উত্তর কোরিয়া তার জবাব দিয়েছে একের পর এক পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে যে তারা বিচলিত নয় তা স্পষ্ট। উত্তর কোরিয়াকে বারবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আটকে রাখতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে পথে হেঁটে যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়েছে এমনটা ভাবা ভুল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এই বিরোধ নিরসনে দুই দেশের প্রধানকর্তা ট্রাম্প ও কিম জং উনের ঐতিহাসিক বৈঠক হয় ২০১৮ সালে। এরপর থেকেই যুদ্ধাবস্থা কেটে যায়। কিন্তু উত্তেজনা কমেনি। করোনায় এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়াকে ছুঁতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিডিয়ায় এটি অবিশ্বাস করলেও উত্তর কোরিয়ার দাবি এমনই। জানুয়ারির শেষ দিক থেকেই উত্তর কোরিয়া করোনাভাইরাসকে ঠেকাতে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। করোনা মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়ার বাস্তব চিত্র অজানা থাকলেও দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রশংসা করা হয়েছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। অন্য সমপরিমাণ জিডিপির দেশগুলোর তুলনায় তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভালো। দেশটির অধিকাংশ জনগণ চিকিৎসায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও তারা দেশের মানুষের মৌলিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম। করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণও ব্যাখ্যা করেছে দেশটি। পূর্ব সতর্কতা এবং  বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন পদক্ষেপ- যেমন দেশে যারা এসেছেন তাদের সবাইকে শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো এবং সব ধরনের পণ্য-সামগ্রী জীবাণুমুক্ত করে সফল হয়েছে দেশটি। পাশাপাশি স্থল, সমুদ্র এবং আকাশপথের সব সীমান্ত বন্ধ করার কারণে দেশটিতে করোনা ছড়ায়নি বলে দাবি করা হয়। করোনায় বেঁচে থাকা উত্তর কোরিয়ার এ চিত্র শতভাগ সত্যি হলে বিশ্ব নেতৃত্বে আগামীতে পরিবর্তন আসতে পারে।

 

সব পাল্টে দিতে পারে রাশিয়া

ভ্রাদিমির পুতিনের রাশিয়া অনেকদিন ধরেই নীরব ভূমিকায় রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভেঙে দেওয়ার পর যে রাশিয়ার জন্ম হয় তা একক নেতৃত্বের ভূমিকায় আসেনি। রাশিয়ার বিশাল সামরিক শক্তি ও আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি তাদের অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে তারাই। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর রাশিয়ার ভূমিকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই পিছিয়ে থাকতে হচ্ছে। সিরিয়ায় আইএস নির্মূলের নামে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ঠেকাতে রাশিয়া উপস্থিত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্রের ব্যবসায় ভাগ বসিয়েছে। ইরানকে চাপে রাখতে গিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র চাপে পড়েছে বারবার। এখনো রাশিয়া বিশ্ব নেতৃত্বে কত বড় ধরনের প্রভাব রাখে তার তিনটি উদাহরণ সবাইকে চমকে দেবে। প্রথমটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। রাশিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে। সে অভিযোগ রাশিয়া অস্বীকার করলেও এ নিয়ে বহু তর্ক রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরে কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে তেল ও অস্ত্র বাণিজ্যের কারণে। সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএসকে নির্মূল করতে গিয়ে তেল হাতিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র- এই অভিযোগে রাশিয়াও আইএস নির্মূলে যোগ দেয়। তিন বছর যে আইএসকে দমাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র, সেই আইএসের মেরুদন্ড ভাঙে রাশিয়া। মাত্র তিন মাস বোমা হামলা করে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে আইএসকে পঙ্গু করে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে নজর দেয় ইরানের দিকে। ইরানকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিকভাবে চাপে ফেললে চীন ও রাশিয়া তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যে ও আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনাদের দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হুমকি দেওয়া ইরানকে সমর্থন দিয়ে আসছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রকে এভাবে চাপে রাখতে রাশিয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সরাসরি বিশ্ব নেতৃত্বের কথা না বললেও রাশিয়া সব সময়ই বিশ্ব নেতৃত্বের বড় দাবিদার।

করোনায় পুরো বিশ্ব যখন কাঁপছে তখন রাশিয়ার চিত্র পুরো ভিন্ন। এত বড়, এত বেশি জনসংখ্যার দেশ হয়েও করোনা সেখানে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েনি। চীন থেকে করোনা ইউরোপে চলে গেল। মৃত্যুপুরী ইউরোপ, রাশিয়া আছে বহাল তবিয়তে। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে রাশিয়া এখন পর্যন্ত দারুণ সফল। বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত ৭ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তখন রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬ হাজার পেরোলো। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু ৩৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, রাশিয়ায় মারা গেছে ৩১৩ জন। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে রাশিয়া করোনা থেকে বেঁচে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া দারুণভাবে সেটি আটকে রাখতে পেরেছে। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে রাশিয়ার জনগণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র লাশ রাখার জায়গা পাচ্ছে না। চিকিৎসক, ওষুধ, হাসপাতাল সংকটে যুক্তরাষ্ট্র দিশাহারা। রাশিয়া এখনো করোনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। করোনা যুদ্ধে রাশিয়ার এই লড়াকু ও সতর্ক অবস্থান আগামীতে ইতিবাচক কিছু দেখাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র তার একক শ্রেষ্ঠত্ব বহু আগেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তাদের চাপে রাখত যে দেশটি সেই রাশিয়া করোনা পরবর্তী বিশ্ব নেতৃত্বে আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

 

এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চল

উন্নয়নশীল দেশগুলো সব সময়ই নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকে। নিজেদের উন্নয়ন ধরে রাখাই তাদের বড় কাজ। দেশে সুশাসন টিকিয়ে রাখা, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার রক্ষায় তাদের নজর থাকে। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলো এককভাবে বিশ্ব নেতৃত্বে না আসলেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশেও হুট করে একক বিশ্ব নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা দেখেন না বিশ্লেষকরা। তবে করোনা পরিস্থিতি সব হিসাব আরেকবার করে দেখার অবস্থা তৈরি করেছে। এশিয়া, আফ্রিকার সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে বড় বিনিয়োগ করে থাকে পরাশক্তিগুলো। বিশ্ব রাজনীতিতে তাই কেউ ছোট নয়। প্রতিটি দেশই তার উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়। সেখানেই যারা সফল তাদের দিকেই চোখ থাকে সবার। একক বিশ্ব নেতৃত্ব না আসলেও বিশ্ব নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলো উন্নয়নশীল, মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে যেমন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে আগ্রাসী মনোভাবে ইঙ্গিত দেয় তেমনি ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দেখে কিছু দেশের জন্য সুর নরম করে তারা। বিশ্ব বাণিজ্য এমন একটি জায়গায় সবাইকে দাঁড় করিয়েছে এখানে এককভাবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ কম।

 

পরাশক্তি ভারতের সামনে সুযোগ

ভারতের বিশাল বাজার, বড় অর্থনীতি এই সময়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। বিপুল জনসংখ্যার দেশ হওয়ায় করোনা বড় ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে ভারত এখন পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভালো আছে। প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়লেও ইউরোপের তুলনায় ভারত ভালো লড়াই করছে। করোনা লড়াই কবে শেষ হবে কেউ জানে না। তবে করোনা পরবর্তী লড়াই হবে অর্থনীতির লড়াই। ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো সেই লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ভারতের সামনে তাই বড় সুযোগ। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে ভারতীয়রা আধিপত্য দেখিয়েছে। করোনা পরবর্তী বিশ্বের পুরো বিশ্বের একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। সেই সুযোগটি নিতে পারে ভারত। জন রপ্তানি, সামরিক শক্তি ও বড় বাজার ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে ভারত বহুদিন ধরেই আগামীর বিশ্ব নেতৃত্বের দাবিদার। সেই পথে রাশিয়া, চীনও রয়েছে তাদের পেছনে ফেলে বিশ্ব নেতৃত্ব ভারতের হাতে অচিরেই চলে আসবে এমনটি নয়। তবে গবেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার একক কর্তৃত্ব হারালে তার মিত্র দেশগুলোর দিকেই হাত বাড়াবে। ইউরোপের চিত্র বদলে দিয়েছে করোনা। যুক্তরাষ্ট্র যেমন ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর দিকে সাহায্যের হাত বাড়ায়নি, ইউরোপের অন্য দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে হাত বাড়ায়নি। ব্যতিক্রম ভারত। ভারত করোনার লড়াইয়ে নানারকম চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়লেও ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মতো পুরো ভেঙে পড়েনি। করোনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ভারত ভবিষ্যৎ অর্থবাণিজ্যে বড় সুবিধা আদায় করে নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে এ অঞ্চলে ভারতের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে শুধু চীন। চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরানের মতো দেশগুলোকে দমিয়ে রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ভারতকে আরও বিস্তৃত পরিসরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে- এমনটাই অনুমেয়। সে হিসাব এখনই করা যাবে না। করোনার সঙ্গে লড়াই চলছে ভারতেও। করোনা পরবর্তী সময়ই বলে দেবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ ভারত কতটা কাজে লাগাতে পারবে।

(10) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।