Teknaf News24:: টেকনাফ নিউজ২৪ এ আপনাকে স্বাগতম
সংবাদ শিরোনাম :
«» রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নৌ-বাহিনীর টহল ও প্রচারাভিযান «» দেড় লাখ রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে করোনা সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করলো কোস্ট ট্রাস্ট «» চট্টগ্রাম পুলিশের অনন্য এক উদ্যোগ: ডোর টু ডোর শপ «» পুলিশকে বিনয়ী, সহিষ্ণু ও পেশাদার হওয়ার নির্দেশ «» মার্কিন কংগ্রেসের ৫ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত «» ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে ইতালি, ৯ হাজারের বেশি মৃত্যু «» সেই এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানকে প্রত্যাহার «» তিনজন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিককে অপমান: বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা চাইবে প্রশাসন «» সারা দেশে সব কিছু বন্ধ: রাস্তাঘাট জনশূন্য, সেনা-পুলিশের টহল «» পুলিশ ও বিজিবির সাথে গোলাগুলিতে ৪ জন নিহত, ৩ পুলিশ আহত «» ৭৮৭ দিন পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান: অবশেষে বাসায় ফিরলেন রিজভী «» ব্রিটেনে করোনায় আক্রান্ত ৬৬ লাখ! «» জুন পর্যন্ত কোনো কিস্তি আদায় নয়, তবে ঋণ দেওয়া যাবে «» অপপ্রচার বন্ধে টিভি চ্যানেল মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ১৫ কর্মকর্তা «» যেন ঈদের ছুটিতে ছুটছেন সবাই! «» রাত ১২টার পর থেকে লক ডাউনে যাচ্ছে গোটা ভারত «» চট্টগ্রামে ১৬৩ কর্মীকে অগ্রিম বেতন দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন টেকনাফের সন্তান জাবেদ «» লক ডাউনে দিন মজুরদের কথা ভুলবেন না : আল্লামা তাকি উসামানি «» কক্সবাজারে ১৪ চিকিৎসকসহ ২১ জন কোয়ারেন্টিনে «» হ্নীলায় বন্দুক যুদ্ধে নিহত বর্মাইয়্যা শমসুর ডানহাত খ্যাত দুই মহারতির ব্যাংক ব্যালেন্স সহ প্রচুর সম্পদ «» বিদেশফেরত ১৩ জনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন বাকি ২০ জন «» সাধারণ ছুটির সময় গণমাধ্যমের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে: তথ্যমন্ত্রী «» নেপালে করোনা আক্রান্ত ২, সারাদেশে লকডাউন «» শিক্ষাবিদদের পরামর্শ: মাদরাসা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা কীভাবে কাটাবে করোনার ছুটি «» ভারতের ৩০ টি রাজ্যে লকডাউন «» সাজা মওকুফ করে ৬ মাসের জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিল সরকার «» জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে টেকনাফের সেরা স্থান অর্জন করেছে আব্দুল হাফিজ «» আরিফের সঙ্গে ডিসি সুলতানার ফোনালাপ ফাঁস: চুপচাপ থাকার পরামর্শ «» করোনাভাইরাসকে ‘সংক্রামক রোগ’ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ «» ইতালির মর্গেও জায়গা নেই, শেষকৃত্যের জন্যও ওয়েটিং লিস্ট!

করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যু, নতুন ৪ জনসহ শনাক্ত ১৪

সারা বিশ্বে মহামারী ঘোষিত নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সী এ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি বিদেশ থেকে আসা এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন। করোনা সংক্রমণ ছাড়াও বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মহাসচিব ড. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল যুগান্তরকে বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। রোগী বাড়লে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট মজুদ রাখা, সংকট কাটানোর সক্ষমতা অর্জন ইত্যাদি কোনো প্রস্তুতি নেই স্বাস্থ্য খাতের। এখন রোগী আছেন ১৪ জন। ৫ দিন পরে যে এক হাজার হবে না এ নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না।

তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে ৯৬টি স্থানে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ আমাদের মাত্র একটি স্থানেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেশে ব্যাপক হারে রোগটি ছড়িয়ে পড়লে তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি কমপক্ষে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে জরুরিভিত্তিতে করোনাভাইরাস শনাক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা বলছে পর্যাপ্ত পিপি আছে, কিট মজুদ আছে। কিন্তু পরিমাণটা তারা বলতে পারছে না। তাদের এ ধরনের আচরণ সন্দেহজনক। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কি কি প্রয়োজন আর কতটা ঘটতি আছে সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে।

একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের প্রস্তুতির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। যদিও তারা বলছে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু আমরা প্রস্তুতির ঘটতি দেখতে পাচ্ছি। তিনশ’ রোগী পরীক্ষা করে ১৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যদি আক্রান্ত দেশ থেকে আসা সাড়ে ৬ লাখ মানুষকেই পরীক্ষা করা হতো তাহলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা জানা যেত।

তিনি বলেন, দেশ করোনামুক্ত রাখতে প্রবাস ফেরত সবাইকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা প্রয়োজন ছিল। কারণ এরা কেউই সঠিকভাবে হোম কেয়ারেন্টিন মানছেন না। ফলে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে এ রোগের পিক হতে পারে। সেটি হলে জ্যামিতিক হারে বাড়বে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

এদিকে সারা দেশে কোয়ারেন্টিনে থাকার সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ৩১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ হাজার ৬৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৯৫৯, রাজশাহী বিভাগে ৬৯, রংপুরে ১০৯, খুলনায় ৬৪৩, বরিশালে ১৩৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা) কোয়ারেন্টিনে গেছেন ১ হাজার ৫৫৭ জন। সর্বোচ্চ কোয়ারেন্টিনকৃত রোগী চাঁদপুরে ১ হাজার ৭৪ জন।

প্রস্তুত হচ্ছে আরও পাঁচটি পরীক্ষা কেন্দ্র : স্বাস্থ্য সেবা অধিদফতরে প্রতিষ্ঠিত সমন্বিত কন্ট্রোল রুমের একটি সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এ ভাইরাস শনাক্তে নতুন করে আরও ৫টি ল্যাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। এগুলো হল- রাজধানীর মহাখালীর আইপিএইচ ল্যাব, ময়মনসিংহে একটি, চট্টগ্রামে একটি, কক্সবাজারে একটি এবং সিলেটে একটি।

দ্রুতই বিভাগীয় পর্যায়ে করোনা ইউনিট -স্বাস্থ্যমন্ত্রী : স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, খুব দ্রুতই দেশের ৮ বিভাগেই নতুন করোনা ইউনিট স্থাপন করা হবে। ইউনিটগুলো স্থাপনের ফলে প্রতিটি বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের তথ্য, চিকিৎসা সুবিধাসহ সব ধরনের মনিটরিং ব্যবস্থা সহজ ও জোরদার হবে।

বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশ থেকে যাত্রীরা যেন বাংলাদেশে এ মুহূর্তে না আসেন সে ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। করোনাভাইরাসের কারণে বেশি মানুষ কোয়ারেন্টিনে রাখার প্রয়োজন হলে ঢাকার কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ কিছু হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান প্রস্তুতের নির্দেশনা দেন তিনি।

ঢাকার বাইরে বিদেশ ফেরত যাত্রীরা কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মানছেন না প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশ ফেরত প্রতিটি ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন থাকার সব নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়ম না মানলে দেশের সংক্রামক রোগের নির্ধারিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জোরালো ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় দেশের চিকিৎসকদের প্রটেকশনের জন্য বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ছয় হাজার বিশেষ গাউন প্রদানের আশ্বাস দেন। সভায় উপস্থিত আইইডিসিআরের পরিচালক সামাজিক মাধ্যমে করোনা বিষয়ে অবগত হতে নতুন একটি ইমেইল আইডি ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা জানান।

আইইডিসিআরের ব্রিফিং : রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, দেশে আরও চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাদের মধ্যে দু’জন ইতালি ফেরত ও একজন কুয়েত থেকে এসেছেন। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।

বুধবার প্রথমবারের মতো করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে একজন বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ৭০ বছর। তিনি একজন করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিয়মানুযায়ী তাকে কবর দেয়া হবে। বুধবার বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত আইইডিসিআরের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা কোনো তথ্য গোপন করি না, গোপন করার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের চেষ্টা চলছে। জ্বর, হাঁচি, কাশি নিয়ে যারা হাসপাতালে যাচ্ছেন, তাদের কোনো ধরনের তথ্য গোপন না করার অনুরোধ জানিয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, তথ্য-উপাত্ত গোপন করলে তা সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইমিগ্রেশন থেকে প্রবাস ফেরত যাত্রীদের নাম ও ঠিকানা পাসপোর্টে দেয়া তথ্য থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেককেই পাসপোর্টের ঠিকানায় পাওয়া যাচ্ছে না। যিনি প্রবাস থেকে এসেছেন তাকে ও তার পরিবার এবং পাড়া-প্রতিবেশীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে সঠিক তথ্য দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া করোনার সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, সামান্য হাঁচি, কাশি ও জ্বর হলে হাসপাতালে আসার প্রয়োজন নেই।

তবে করোনার লক্ষণ ও উপসর্গ তীব্র হলে হাসপাতালে আসতে হবে। চিকিৎসকরা লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি রোগতাত্ত্বিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে প্রবাস ফেরত হলে কারও সংস্পর্শে এসেছেন কিনা, তা জেনে সঠিক পরামর্শ দেবেন। প্রয়োজন হলে নমুনা পরীক্ষা করবেন।

ঢাকা মেডিকেলের ৪ চিকিৎসক ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ : নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার চিকিৎসক ও নার্সকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান মো. আবুল কালাম আজাদ বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া চারজন রোগীর শরীরে নতুন করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। তাদের সংস্পর্শে যাওয়া চারজন চিকিৎসককে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জন মেডিসিন বিভাগের ও দু’জন নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক। অধ্যাপক আজাদ বলেন, সর্দি-কাশি নিয়ে হাসপাতালে রোগী এলে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। কার সাধারণ সর্দি-কাশি আর কে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সেটি পরীক্ষা না করে বোঝার উপায় নেই।

সেবাবঞ্চিত সাধারণ রোগী : করোনা আতঙ্কে রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে বারডেম হাসপাতাল। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা অ্যাজমা রোগী খোদেজা বেগম (৮০) দীর্ঘদিন বারডেমে নিয়মিত চিকিৎসা করতেন। সম্প্রতি তিনি বারডেমে ভর্তি ছিলেন। খোদেজা বেগমের মেয়ে সুফিয়া বেগম বলেন, তার মা সম্প্রতি ওমরা পালন করে আসার পরে তার শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার বারডেমে মাকে ভর্তি করতে নিয়ে যান। কিন্তু বারডেম কর্তৃপক্ষ তার করোনা হয়েছে বলে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। পরে খোদেজা বেগমকে নিয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে গেলে বিভিন্ন পরীক্ষা করে তিনি করোনা আক্রান্ত নন বলে জানায়।

এরপর বুধবার পুনরায় বারডেম হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মো. সেলিম জানিয়ে দেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিউটিউট (আইইডিসিআর) থেকে যদি রিপোর্ট দেয় তিনি করোনা আক্রান্ত নন তবেই চিকিৎসা হবে। সুফিয়া জানান আইইডিসিআরে খোদেজা বিবির পরীক্ষা হয়েছে। দু’দিন পরে রিপোর্ট দেবে বলে জানিয়েছে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি : করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশের সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটি (এফডিআরএস)। সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. আবুল হাসানাৎ মিল্টন এবং মহাসচিব ডা. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কয়েকদিন আগে উপজেলা হাসপাতালে কর্মরত একজন ডাক্তার খুব ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জানালেন, নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

প্রতিদিন বহির্বিভাগে অনেক জ্বরের রোগী দেখতে হয়। এর মধ্যে কারও শরীরে করোনাভাইরাস আছে কিনা তা নিশ্চিত নয়। নিজেদের প্রতিরক্ষায় মাস্ক, গ্লাভস বা কোনো পোশাকও নেই। ঢাকা থেকে একজন ডাক্তার জানালেন, ডাক্তারদের কাছে জ্বরসহ নিউমোনিয়ার রোগী বাড়ছে।

রোগের ল্যাবরেটরি টেস্ট করার সুযোগও সীমিত। হাতেগোনা কয়েকটা ল্যাবরেটরিতে এ কনফার্মেটরি টেস্ট করা যায়। সরকার যতই দু-তিনজনের হিসাব দিক না কেন, পর্যাপ্ত টেস্ট করার সুযোগ না থাকার কারণে দেশে নতুন করোনাভাইরাসের প্রকৃত অবস্থা জানা অসম্ভব।

এ দুই চিকিৎসক নেতা বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে সবকিছু বন্ধ করা হলেও হাসপাতাল বন্ধ করা যাবে না। ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী সবাইকে হাসপাতালে রোগী দেখতেই হবে। জনস্বার্থে সরকারকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই ভাবতে হবে। বাংলাদেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসার্থে একটা প্রটোকল তৈরি করে অবিলম্বে সব ডাক্তারের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান বাস্তবতায় সন্দেহজনক রোগী (সাসপেক্ট কেস) আর নিশ্চিত রোগী (কনফার্মড কেস) কিভাবে চিহ্নিত করবেন সে ব্যাপারে গাইডলাইন থাকতে হবে। এসব রোগীর চিকিৎসার্থে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে গাইডলাইন তৈরি করেছে। এ গাইডলাইনের আলোকে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ কর্তৃক চিকিৎসকদের জন্য একটা ট্রিটমেন্ট প্রটোকল তৈরি সময়ের দাবি।

তারা বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঠপর্যায়ে ডাক্তারসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তার ব্যাপারটিতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। এভাবে চললে, দেশে রোগীর সংখ্যা বাড়লে ডাক্তারসহ সব স্বাস্থ্যকর্মী হুমকির মুখে পড়বেন।

ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা সুস্থ না থাকলে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। করোনা রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত ডাক্তারসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় বিশেষ পোশাক, গ্লাভস, চোখ ঢাকার জন্য গগলস সরবরাহ করতে হবে।

বাসায় বসে কাজ করবেন ব্র্যাকের কর্মীরা : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মীরা রোববার থেকে অফিসে আসবেন না। তারা বাসায় বসেই অফিসের দায়িত্ব পালন করবেন। মহাখালীতে ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ে দুই হাজার কর্মী কাজ করেন।

এদের মধ্যে যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি কাজে নিয়োজিত নন, তারা রোববার থেকে অফিসে আসবেন না। সামনের সপ্তাহ পুরোটাই এভাবে চলবে। পরবর্তী শনিবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কর্তৃপক্ষ নতুন সিদ্ধান্ত জানাবেন।

বুধবার সকালে ব্র্যাকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক জরুরি সভায় এ ঘোষণা দেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ের বাইরে দেশব্যাপী ব্র্যাক কর্মীদের সীমিত পরিসরে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। সমাজের অন্যদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করবে ব্র্যাক। আসিফ সালেহ বলেন, এ সংকট মোকাবেলায় সরকারকে সহযোগিতা করতে ব্র্যাক সব সময়ই প্রস্তুত।

৩০ বিচারক হোম কোয়ারেন্টিনে : ট্রেনিং শেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে আসা জেলা পর্যায়ের ৩০ বিচারককে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা জজ রয়েছেন ১৩ জন। অন্য ১৭ জন অতিরিক্ত জেলা জজ ও যুগ্ম জেলা জজ রয়েছেন।

২ সপ্তাহের ট্রেনিং শেষে ১৫ মার্চ দেশে ফিরে এলে তাদের নিজ বাসা-বাড়িতে অন্তরীণ অবস্থায় রাখা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০ বিচারক ট্রেনিংয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সিডনি যান। ট্রেনিং শেষে ১৫ মার্চের আগে তারা ফিরে আসেন। দেশে আসার পর থেকেই তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।Daily Jugantor

(10) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।