Teknaf News24:: টেকনাফ নিউজ২৪ এ আপনাকে স্বাগতম
সংবাদ শিরোনাম :
«» কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত «» দাম বাড়ায় রাতে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা «» লাতুরী খোলা মসজিদ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ «» সশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত দলের খোঁজে র‍্যাবের হেলিকপ্টার অভিযান «» টেকনাফে কোটি টাকার ইয়াবাসহ উলুচামরীর মিজান আটক «» ঘুষের টাকাসহ ইনকাম ট্যাক্স ইন্সপেক্টর গ্রেফতার «» পিঁয়াজ আমদানিকারকদের পকেটে ১৫৯ কোটি টাকা «» ৪২ টাকায় কেনা পিয়াজ ১১০ টাকায় বিক্রি! «» ভারত চাপে কি না বলতে পারব না, তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী «» আন্তর্জঅতিক আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ সীমান্তে ইসরায়েলি ড্রোন দিয়ে নজরদারি করছে ভারত «» ৩৬ বছর পর মাকে ফিরে পেল আমিরাতের তরুণী মরিয়ম! «» সিরিয়ায় তুরস্ক-রাশিয়ার যৌথ টহল «» ভারতের সমুদ্রসীমায় ঢুকছে চীনা রণতরী : মার্কিন নৌবাহিনী «» নিরাপদ অঞ্চলে এখনো সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে: এরদোগান «» মালয়েশিয়া থেকে শুরু হলো প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম «» বৃহস্পতিবার খোকার মরদেহ দেশে আসবে «» অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী ৬০০ জনের নতুন তালিকা «» তথ্য চেয়ে ফের বিআরটিএকে দুদকের চিঠি «» ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম আফজালের ব্যাংক হিসাব তলব «» শুদ্ধি অভিযান আইওয়াশ কিনা সময়ই বলবে: প্রধানমন্ত্রী «» সাকিবের নিষেধাজ্ঞা দুঃখজনক: মির্জা ফখরুল «» আলেমদের মর্যাদা সবার ওপরে «» ১৩ মাসে কক্সবাজারে ১৮৪ মাদককারবারি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত «» দ্রুতগতিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে চীন, ভারত মহাসাগরে প্রবেশের আশঙ্কা «» রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচর প্রস্তুত দ্রুত উদ্যোগ নিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি «» সাকিব ভারতের হয়ে খেললে তার আরও সুখ্যাতি হতো: আনন্দবাাজার «» তিন মাসে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৮৪ কোটি টাকা «» মালয়েশিয়া থেকে ফিরেছেন ১১৫৪৮ বাংলাদেশি «» উখিয়ার ইনানী সৈকত থেকে ৪০ কোটি টাকা মূল্যের আট লাখ ইয়াবার বড় চালান উদ্ধার করেছে র‌্যাব «» পিয়াজের কেজি ১২০!

শুদ্ধি অভিযান আইওয়াশ কিনা সময়ই বলবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধী অপরাধীই। কোন দল কী বলল, সেটা বিবেচ্য বিষয় না। অপরাধের সঙ্গে যাকে পাচ্ছি, তাকেই ধরছি। কেউ ছাড় পাচ্ছে না। শুদ্ধি অভিযান আইওয়াশ নাকি, দেখা যাবে; আর এতে কখন কে ধরা পড়ে, সময়ই বলে দেবে।

চলমান অভিযান ‘আইওয়াশ’- বিএনপির এমন তির্যক মন্তব্য নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইওয়াশের ব্যবসাটা বিএনপি ভালোই জানে। দেশের মধ্যে এ ধরনের একটা কাণ্ড চলেছে, কেউই জানত না! সংবাদমাধ্যমও জানে না!

এক ঘণ্টাব্যাপী এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তিনি বলেন, ভয় শব্দটি আমার অভিধানে নেই। নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের মন্তব্যের জবাবে বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তো তার (মেনন) জয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধীকে ধরলে সেটা আইওয়াশ হয় কেমন করে? জিয়াউর রহমানের সময় এসব হতো। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর তারা অত্যাচার করত। এরশাদ সাহেব আরও একধাপ এগিয়ে ছিলেন। আমরা আসার পর দুর্নীতি কমছে।

তিনি বলেন, জনগণ আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। আমরা দেশ চালাতে এসেছি। আমরা কাউকে ধরে কারও থেকে কমিশন আদায় করি না। এ সময় জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে কীভাবে মানি লন্ডারিং কালচার, ঋণখেলাপি, ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া, শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মূল দুর্নীতিবাজদের দু’জন তো শাস্তি পেয়েই গেছেন- খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান। তাদের আরও কিছু খুচরা নেতা আছে। দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুন, বহু অপরাধে অপরাধী- এই নেতাদেরও সাজা পেতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যে দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান দুর্নীতির দায়ে কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও দুর্নীতির দায়ে পলাতক, যে দলে এত দুর্নীতিবাজ রয়েছে, তারা আবার কী বলবে। তারা কোন সাহসে কথা বলে?

দেশের গণমাধ্যমগুলো ক্যাসিনোর খোঁজ না পাওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বেসরকারি চ্যানেল প্রায় ৩২টি চালু আছে। ২শ’র বেশি সংবাদপত্র। অথচ কোনো সংবাদমাধ্যমে কখনও ক্যাসিনোর সংবাদ দেখিনি। দেশে ক্যাসিনোর মতো একটা ঘটনা ঘটে গেল, কেউ জানে না! এটা কোনো কথা হল! তাই বলি, কে কখন ধরা পড়ে তা তো বলা যায় না।

বিএনপি জুজুর ভয়ে ভীত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভয় পেলে আমি এই অভিযানে নামতাম না। ভয় শব্দটা আমার অভিধানে নেই। ভয় পাওয়ার লোক আমি না।

আমি যখন এ দেশে পা দিয়েছি, তখন আমি ভেবেছি আমার পরিবারের হত্যাকারীরা এ দেশের ভালো ভালো জায়গায় আছে। আমাকে যে কোনো সময় হত্যা করতে পারে। এসব ভেবেই আমি এ পর্যন্ত এসেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পাচ্ছেন।

যারা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ধরা পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে কি না, জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীরা যাতে দ্রুত শাস্তি পায় তার জন্য আমরা কাজ করছি।

ক্যাসিনোর মতো অন্যান্য সেক্টরেও এই অভিযান চালানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেই অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের তির্যক মন্তব্য নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে ওই নেতাও বিতর্কিত হয়ে পড়েন। তবে তার বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

রাশেদ খান মেননের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জোটের নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, তার মনে তো কষ্ট থাকতেই পারে। কিন্তু এটাও ভাবতে হবে- তিনি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার জয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জোটের মুখপাত্র নাসিম সাহেব আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। জানতে চেয়েছেন আমার মন্তব্য আছে কি না। আমি বলেছি, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এ বিষয় নিয়েই যদি পড়ে থাকি তাহলে দেশের উন্নয়নে কাজ করব কখন?

রাশে খান মেনন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাকে তো আমি বহুদিন থেকেই চিনি। আমরা একসঙ্গেই রাজনীতি করেছি। ’৭০ সালে যখন নির্বাচন দেয়া হল তখন তিনি স্লোগান দিলেন- ‘ভোটের বাক্সে লাথি মার, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’

কিন্তু তখন তো ভোট না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। ’৭২ সালে যখন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্থলসীমানা চুক্তি হল তখন তিনি বলেছিলেন, ‘বেরুবাড়ি বেচে দিল, বেরুবাড়ি বেচে দিল’। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সব দেখেছেন, বেরুবাড়ি বেচে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কিছু করে না।

তবে বিষয়টি নিয়ে ১৪ দল বৈঠকে তিনি (মেনন) দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এমন বক্তব্য হয়তো তিনি আরও দেবেন। এতে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যদি ভোট না দিত, আমাদের পক্ষে না থাকত, তাহলে আমাদের সমর্থন থাকত না। এবারের নির্বাচনে জনগণ, সর্বস্তরের ব্যবসায়ীর সমর্থন ছিল। শুধু আওয়ামী লীগ না, বিএনপির ব্যবসায়ীরাও আমাদের সমর্থন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করে বলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলেই দেশের হারানো সম্মান ফিরে এসেছে। ন্যাম সম্মেলনে সবাই বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন। প্রবাসীরাও খুশি। তাই কারও কথায় কিছু যায় আসে না।

১০০ জনের তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনকে দেয়া হয়েছে ব্যবস্থা নিতে। আর কতজনের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে আছে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা বলা যাবে না। শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, কোনো এক পত্রিকার সম্পাদক এক ব্যাংকের এমডিকে ফোন করে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কাছে টাকা চেয়েছেন, নয়তো তাদের বিরুদ্ধে লেখা হবে। এসবও বের হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

নুসরাত হত্যার বিচার দ্রুত হওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটার সুবিধা ছিল নুসরাত নিজে জবানবন্দি দিতে পেরেছিল। এটা গুরুত্বপূর্ণ আলামত ছিল। অনেক সময় দেখা যায়, সাক্ষীর অভাব থাকে, ঝামেলা হয়। এ ছাড়া জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি সাংবাদিকদেরও সাধুবাদ জানান নুসরাত হত্যাকাণ্ডের বিচারে বড় ভূমিকা পালন করার জন্য। নুসরাত হত্যার বিচার একটা দৃষ্টান্ত। নুসরাতকে সাহসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত সাহসী মেয়ে। মেয়েটা জীবন দিয়ে গেছে। সে একটা সাহসী ভূমিকা রেখে গেছে। শেষ পর্যন্ত সে কিছুতেই নত হয় নাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির তথ্য তুলে ধরে বলেন, এই পেঁয়াজ শিগগির পৌঁছাবে। পেঁয়াজ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এ সমস্যা সাময়িক। আরও পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, যারা এখন মজুদ করছে, তারা কত দিন ধরে রাখতে পারবে। পেঁয়াজ কিন্তু পচে যায়। রাখতে গিয়ে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গিয়ে তাদেরই লোকসান হবে, লাভ হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাম সম্মেলনে দেশগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উন্নয়ন গুরুত্ব পেয়েছে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, শান্তি যাতে প্রতিষ্ঠা হয়, সেদিকে দৃষ্টি ছিল। সবাই বাংলাদেশের উন্নয়নে বাহবা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। ২০০১ সালে সরকারে না আসতে পারায়, প্রস্তুতি নিলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসার কারণে ন্যাম সম্মেলন বাংলাদেশে হয়নি বলে জানান।

পদ্মা সেতু বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে উদ্বোধন হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা টেকনিক্যাল জিনিস। সময় বেঁধে দিয়ে হয় না। পদ্মা অনেক খরস্রোতা নদী হওয়ায় এখানে অনেক টেকনিক্যাল বিষয় কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট সময় বলা যাবে না, কিছু সময় লাগবে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চের সামনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। ২৫-২৬ অক্টোবর আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট- ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন শেখ হাসিনা। এ সম্মেলনে গৃহীত নীতিমালার আলোকে সমকালীন বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

(10) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।