,

সংবাদ শিরোনাম :
«» চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সৌদিয়া-মাইক্রো সংঘর্ষে নিহত 8 «» ভেজাল রোধে হবে খাবারের পরীক্ষাগার: প্রধানমন্ত্রী «» জেলা ও উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনে সমঝোতা স্মারক সই «» আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার মধ্যেও বন্দুকযুদ্ধ «» ১৬ ফেব্রুয়ারি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ «» নারী কণ্ঠে গান গেয়ে চমক দেখালেন শাবনূর ভক্ত মিজান «» ইসলাম প্রেমে হেরে গেল ইসরায়েলের ১০০ মিলিয়ন ডলার «» প্রবাসী কর্মী নির্যাতন ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ মালয়েশিয়ার «» সৌদি কারাগারে চুমু দিতে বাধ্য করা হয় নারী বন্দিদের «» তামাশার নির্বাচনের পর চা-চক্র বিবেকহীন আনন্দ: রুহুল কবির রিজভী «» চা-চক্রের নিমন্ত্রণে না গিয়ে বিএনপি আলোচনার সুযোগ হারিয়েছে: হানিফ «» তাবলিগ জামাতের বিভেদ মিটে গেছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী «» আফগান যুদ্ধের ইতি টানতে রূপরেখা তৈরি মার্কিন-তালেবান «» মানবপাচার প্রতিরোধে সকলের সচেতন হওয়া উচিৎ :উখিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের যুগ্নসচিব «» বেতনের আওতায় নারী ফুটবলাররা «» উখিয়ায় মেজবানের রান্না করা মাংসে ‘আল্লাহু’ লেখা «» এনজিওতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ জেলা প্রশাসক’র «» আরও ৩১ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠাতে চায় ভারত «» সৌদি গণমাধ্যমে বাংলাদেশের চা «» সোনার বাংলা গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী «» ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নামে বেনামের সম্পদ জব্দ ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবী স্বচেতন মহলের «» জাতীয় পার্টি শক্ত বিরোধীদলের ভুমিকা রাখবে: রাঙ্গা «» মিস কালচার ওয়ার্ল্ড মুকুট জিতলেন প্রিয়তা «» সাগরপথে মানবপাচার বন্ধ হচ্ছে না , চক্রের টার্গেট এবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প «» সুশাসন নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী «» সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কারও অনুমতি নেবে না তুরস্ক: এরদোগান «» তাবলিগের সংকট নিরসনে দেওবন্দে যাচ্ছেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল «» এ সময়ের সবচেয়ে দামি ফুটবলার কে? «» টেকনাফ ৫০ শয্যা হাসপাতালে একযোগে ১২ জন নার্স যোগদান «» যে কারণে সিরিয়া থেকে ইরানি সেনা সরাতে চায় ইসরাইল

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নামে বেনামের সম্পদ জব্দ ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবী স্বচেতন মহলের

অন্ধকার জগত ছেড়ে আলোর পথে আসার খবরে সর্বত্র আলোচনার ঝড়
ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নামে বেনামের সম্পদ জব্দ ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবী স্বচেতন মহলের
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ইয়াবা ব্যবসায়ীরা খুব শিঘ্রই আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে,এমন খবরে দেশ জুড়ে আলোচনা সমালোচনার যেন শেষ নেই। ইয়াবা কারবারীরা অন্ধকার জগত ছেড়ে আলোর পথে আসার বিষয়ে কোন শর্ত আছে কি ? না ,এমন প্রশের কোন জবাব মিলছেনা কোথাও। একটি বিশ^স্থ সূত্রে জানা যায়, আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারীদের মধ্যে শতাধিক ইয়াবা কারবারী এরইমধ্যে পুলিশের হেফাজতে চলে গেছেন। বর্তমানে তাদের কক্সবাজার পুলিশ লাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল, মো. শফিক, ভাগিনা সাহেদুর রহমান নিপু ও তালতো ভাই সাহেদ কামাল, চাচাতো ভাই ও বোন জামাই মো. আলম ,হ্নীলার ছৈতু-রশিদ সহ বেশ কয়েকজন গডফাদার রয়েছে। টেকনাফের উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের দুই পুত্র সহ টেকনাফ সদরের কয়েকজন গডফাদার আত্মসমর্পণে যাচ্ছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তাদের ব্যাপারে তালিকায় নাম ছাড়াও সুনির্দিষ্ট ইয়াবার মামলা রয়েছে। টেকনাফ সদরের অপর এক গডফাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযুক্ত টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদে সদস্য এনামুল হক নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। গত ১৫ই জানুয়ারি বিকেলে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রিয় মাতৃভূমি টেকনাফ বাসি সম্বোধন করে যে স্ট্যাটাস দেন সেখানে লেখেন, “আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান যাত্রা শুরু করছি”।
আত্মসমর্পণের জন্য যাওয়ার সময় তার সাথে একজন পুলিশ সদস্য এবং কয়েকজ স্থানীয় সাংবাদিক ছিলো বলে সে ঐ ফেসবুক পোস্টে জানায়। এনামুল হকের বড় ভাই হাফেজ মাওলানা নুরুল হক তার ভাইয়ের আত্মসমর্পণের খবর নিশ্চিত করেছেন বিবিসি বাংলা কে জানায়, তার ভাইকে নিয়ে গেছে, কিন্তু কোথায় নিয়ে গেছে সেটা তাদের জানা নেই।
তবে যতটুকু জানি পুলিশ লাইনের কোথাও আছে। আমরা যোগাযোগ করেছিলাম, বলা হয়েছে চিন্তার কিছু নাই। তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা, বাড়ীঘরে হামলা মামলা সহ ২/৩টি অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে স্বীকার করলে ও টেকনাফ থানা পুলিশ জানায় ভিন্ন কথা। টেকনাফ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস জানিয়েছেন, এনামুলের নামে ইয়াবা সম্পর্কিত ১৫টি মামলা আছে। জনপ্রতিনিধির সাইন বোর্ড দিয়ে আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করায় এলাকায় গডফাদার হিসাবে পরিচিতি রয়েছে তার।
এদিকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে স্বচেতন মহলে নানা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া চলছে। অনেকেই বলেছেন, ক্রসফায়ারের সমালোচনা এড়াতেই আত্মসমর্পণের কৌশল।
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, কিছুদিন আগে মহেশখালীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে জলদস্যুরা অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখন কি ইয়াবা জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবে? যদি তা-ই হয়, তাহলে টেকনাফের বড় বড় ইয়াবা গডফাদার যারা আছে, যারা ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা, গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছে, তাদের সম্পদের কী হবে? আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতার আগে সরকারকে এসব কৌশলী বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে।
সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ আলী বলেন, আমরা শুনেছি আব্দুর রহমান বদি এ উদ্যোগটি নিয়েছেন। এটি মাদক নির্মূলে তার সদিচ্ছার প্রকাশও হতে পারে। তবে তিনি কার সঙ্গে আলাপ করে এ উদ্যোগ নিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি প্রধানমন্ত্রী- এসব কিছুই জানি না। অধ্যাপক মোঃ আলী আরও বলেন, কারবারীদের তালিকায় যারা আছে তাদের ডেকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছেন বদি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক কারবারীদের তালিকায় যারা আছে এরা বেশিরভাগই চিহ্নিত মাদকবিক্রেতা। কিছু নিরীহ মানুষও তালিকায় রয়েছে। আবার এমনও আছে, ইয়াবার বড় গডফাদার, ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে, কিন্তু তালিকায় তার নাম নেই। তার বিরুদ্ধে মামলাও নেই। তাহলে এসব গডফাদারদের কী হবে। তাদের কোন প্রক্রিয়ায় বিচার করা হবে? সবকিছু মিলিয়ে আমরা এখনো বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে আছি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি ফলপ্রসূ উদ্যোগ বলেও মনে করি। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সহ-সভাপতি প্রকৌশলী কানন পাল বলেন, মাদক কারবারীদের আত্মসমর্পণের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসার পর এখন সব মহলে বিষয়টি আলোচনার শীর্ষে। সরকারের এ উদ্যোগকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। তবে আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের অবশ্যই কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ এ ‘আত্মসমর্পণ’ যেন ইয়াবার চিহ্নিত গডফাদারদের পার পাওয়ার কৌশলে পরিণত না হয়। আত্ম সমর্পণ বিষয়ে সাধারণ জনগনের মতে, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নামে বেনামে যে সম্পদ দৃশ্যমান তা জব্দ করতে হবে। ইয়াবার টাকায় নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের অপসারণ করে রাষ্ট্রের উচিত দেশে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। যাতে আগামী প্রজম্ম তা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। এদিকে
আইন ও শালিস কেন্দ্রের এক পরিসংখ্যান বলেছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশে চালানো অভিযানের সময় ১৫ই মে থেকে ৩১শে অক্টোবর ২০১৭ পর্যন্ত ২৭৬ জন নিহত হন র‌্যাব-পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’।
মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে শুরু হয় পুলিশ ও র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযান। উল্লেখ্য যে, চিহ্নিত ইয়াবা কারবারীকে ধরতে গত ৪ মে থেকে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়। এ অভিযানে কেবল কক্সবাজারেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রায় ৩৯ জন মাদক কারবারী নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬ জনই টেকনাফের। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ও টেকনাফে সর্বনাশা মাদক ইয়াবার কারবার বন্ধ হয়নি। ইয়াবার বিস্তার ঠেকানো না গেলে আগামী নতুন প্রজম্ম ধ্বংস হয়ে যাবে এটি সর্বমহলের মত। ##

(10) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।