,

সংবাদ শিরোনাম :
«» অবশেষে আলোচিত সেই ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার «» ১লাখ ৭০হাজার ইয়াবাসহ লেদার রবিউল র‌্যাব-১৫ এর হাতে আটক «» টেকনাফে ইয়াবা কিনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’নারায়নগঞ্জের রাসেল নিহত «» ঘুষ বন্ধে পুলিশের ইউনিফর্ম থেকে পকেট খুলে নিচ্ছে কেনিয়া সরকার «» এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না: শেখ হাসিনা «» ১২৫ রানেই অলআউট আফগানিস্তান «» টেকনাফ সমিতি ইউএই’র ঈদ পূণর্মিলনী অনুষ্টিত «» চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ভর্তি হবার সাফল্য অর্জন করেছে টেকনাফের মেধাবী ছাত্র নয়ন «» সৌদি-আমিরাতের জন্য আরও ‘বিস্ময়’ অপেক্ষা করছে! «» ইয়াবা কারবারিদের সম্পদ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেয়ার প্রক্রিয়া «» টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৬ লাখ ইয়াবা উদ্ধার «» টেকনাফের তিন ইয়াবা কারবারির ২৫ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ «» কাতারের আমিরকে সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণ! «» পুলিশি হেফাজতে ‘ইয়াবা ডন’ সাইফুল «» শারজাহ আলনামাত টাইপিং সেন্টারের ইফতার মাহফিল সম্পন্নঃ «» টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনদ্বীপে মানববন্ধন।   «» ভারতে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়! «» নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে তলব ৫২ পণ্য প্রত্যাহার না হওয়ায় আদালতের অসন্তোষ «» আজ ২৪মে জুমাবার শারজাহ ‘আলনামাত টাইপিং সেন্টারের’ ইফতার মাহফিল «» আমিরাতে সৌদির তেলবাহী জাহাজে হামলা «» অতিরিক্ত গরমে টেকনাফে ভাইরাস জর ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব «» উখিয়ায় ২১ ঘন্টা বিদ্যুৎ : টেকনাফে ১৩ ঘন্টা লোডশেডিং কেন? «» আজ বিশ্ব মা দিবস «» টেকনাফে দেড় কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার «» গণতন্ত্রের জন্য ঈদের আগেই খালেদাকে মুক্তি দিন :জাফরুল্লাহ «» ১২ বছরের শিশুর পেটে আরেক শিশু! «» মিয়ানমারে ফের বিমান দুর্ঘটনা ! «» ফাইনালের আগেই যে পরিবারের আইপিএল ট্রফি নিশ্চিত! «» ১৫ মে দেশে ফিরছেন ওবায়দুল কাদের «» ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ আদালতর

সাগরপথে মানবপাচার বন্ধ হচ্ছে না , চক্রের টার্গেট এবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারে বছর দুয়েক দৃশ্যমান বন্ধ থাকলেও আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানবপাচার। সম্প্রতি নতুন করে শুরু হয়েছে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার। তবে মানবপাচার চক্রের এবারের টার্গেট বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। একটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্র এসব কাজ শুরু করেছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা আটকে দিয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনী। গ্রেপ্তার করেছে কয়েকজন সংঘবদ্ধ চক্রের দালালকে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর কক্সবাজার নৌ-রুটে আবারও মানবপাচার শুরু হওয়ায় বিস্মিত স্থানীয়রা।

আইন শৃংখলা বাহিনীর দেয়া তথ্য মতে, চলতি সতুন বছরের ৭ জানুয়ারি অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর উপকূল থেকে ১৫ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সাতজন নারী রয়েছেন। উদ্ধার করা ১৫ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ হলেন, উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা শিবিরের রাবিয়া বেগম (১৮), একই শিবিরের ফারবিন আক্তার (১৯), থ্যাংখালী ক্যাম্পের রেহেনা আক্তার (১৮), কুতুপালং শিবিরের আনোয়ারা বেগম (১৫), বালুখালী শিবিরের নূর কলিমা (২৪), সেতারা বেগম (২৫), জাহেদা বেগম (২২), মোহাম্মদ সালাম (৪০), কেফায়েত উল্লাহ (৩২), টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের বেলাল উদ্দিন (৩০), মোহাম্মদ সোহেল (২২), শাহ নবী (৩০), মোহাম্মদ আলম (২৩), ইমান হোসেন (৩৩) ও হাবিজুর রহমান (২৪)। তাদের আত্মীয়স্বজনরা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় রয়েছে। তারা সবাই উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা।

একইভাবে ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের উপকূল থেকে ১৪ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয় তাদের কাছ থেকে। দু’দিন ধরে সাগরে এদিক-ওদিক ঘোরানোর পর ‘থাইল্যান্ডের তীরে পৌঁছেছি’ বলে টেকনাফের সৈকতে তাদের নামিয়ে দেয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা। ওই ১৪ জনের মধ্যে পাঁচ জন নারীও ছিল। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছে পাচারকারীরা। আরও একলাখ ৯০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল উদ্ধার পাওয়া এই রোহিঙ্গাদের।

গত ৭ নভেম্বর সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টাকালে ৩৩ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা। এসময় ৬ দালালকেও আটক করা হয়েছে। ৩৩ রোহিঙ্গার মধ্যে ১০জন নারী, ১৪ পুরুষ ও ৯জন শিশু। তারা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। গত ৩ জুলাই থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রানং প্রদেশের একটি পাহাড় থেকে ২৪ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী ও সীমান্ত পুলিশ। এসব রোহিঙ্গাদেরকে মানব পাচারকারীরা ফেলে গিয়েছিল। ৯ দিন ধরে ওই পাহাড়ের উপরেই ছিল তারা। থাইল্যান্ডের পুলিশকে আটক রোহিঙ্গারা জানিয়েছিল কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে তারা পালিয়ে গিয়েছিল দালালের হাত ধরে।

শুধু রোহিঙ্গারা নয়, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি এখন স্থানীয়রা সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়া শুরু করেছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার সোনারপাড়া গ্রামের ছৈয়দ আলমের ছেলে ছৈয়দ নুর (২৫), মন্জুর আলমের ছেলে শাহ কামাল (২২), আলী আহমদের ছেলে রবিউল আলম (২৫) সহ অনেকেই সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পৌছেন। টেকনাফের জনৈক মোস্তাক আহমদের হাত ধরে তারা টেকনাফ পয়েন্ট দিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পৌছেছেন বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

উখিয়া মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ বলেন, ‘সম্প্রতি নতুন করে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চলছে বলে খবর রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। এর আগেও একই রুট দিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র মানবপাচার করে আসছিল। এবারও যদি পূর্বের মত মানবপাচার শুরু হয়, তাহলে বিষয়টি খুব উদ্বেগজনক’।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মো: মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘দালালদের হাত ধরে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। ইতিমধ্যে ৩ শতাধিক রোহিঙ্গা সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। আগামী দুকেদিনের মধ্যে প্রায় ৭ শতাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে যেতে পারেন বলে শুনেছি’।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘আসলে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার কমে গেছে, তবে পাচারকারি চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি কিছু কিছু রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় আইন শৃংখলা বাহিনী উদ্ধারের ঘটনার পর থেকে আমরা এলার্ট রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোষ্টগার্ড ছাড়াও আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আমরা কঠোরভাবে পাচারকারিদের দমন করব’।

উল্লেখ্য, গত ২০১০ সালের শেষের দিকে কক্সবাজারের উপকুলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া আদম পাচারের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালের দিকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আসলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামেন এখানকার পুলিশ, কোষ্টগার্ড ও বিজিবি’র সদস্যরা। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ড ৭০টি এবং থাইল্যান্ডের সীমান্তের কাছাকাছি মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলের জঙ্গলে পাচারকারিদের ২৮টি ক্যাম্পে ১৩৯টি কবরের সন্ধান পায় সে দেশের সরকার। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার নড়েচড়ে বসে। ২০১৪সালের ১৭ডিসেম্বর মানবপাচারের একটি তালিকা তৈরী করে পুলিশের ঢাকা হেডকোয়ার্টারের স্পেশাল ক্রাইম এন্ড প্রসিকিউশনে প্রেরন করা হয়। এতে ১১জন আর্ন্তজাতিক মানবপাচারকারী, ২৬জন হুন্ডি ব্যবসায়ী ও কক্সবাজার সহ সারা দেশের ২৩০জন সহ প্রায় ৩শ’ জনের মানবপাচারকারীর নাম রয়েছে। কিন্তু, ওই তালিকায় কক্সবাজার জেলার বাঘা বাঘা প্রায় ৫শ’ জন মানবপাচারকারীর নাম বাদ পড়ে যায়। এই তালিকা ধরে শুরু হয় মানবপাচারকারি দমনের অভিযান। প্রথম পর্যায়ে কক্সবাজারের শীর্ষ মানবপাচারকারি ধলু হোসেন সহ জেলায় ৬ জন মানবপাচারকারি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত এবং গ্রেপ্তার হয়েছে দেড় শতাধিক মানবপাচারকারি। এরপর থেকে কক্সবাজার জেলার তালিকাভূক্ত ও তালিকার বাইরে প্রায় ২ হাজার মানবপাচারকারি পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে পালিয়ে যায়। সেই থেকে বর্তমান সময়ে সমুদ্রপথে মানবপাচার শুন্যের কোটায় নেমে আসে। কিন্তু, গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনার পর প্রাণ ভয়ে আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এছাড়াও ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ও এরআগে আসা রোহিঙ্গা সহ মোট ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থান করছে। আর এসব রোহিঙ্গাদের টার্গেট করছে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারিরা। তাই, ২০১৫ সালের মত অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ মানবপাচারের ঢল নামার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

(10) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।