,

সংবাদ শিরোনাম :
«» আমিরাতে সৌদির তেলবাহী জাহাজে হামলা «» অতিরিক্ত গরমে টেকনাফে ভাইরাস জর ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব «» উখিয়ায় ২১ ঘন্টা বিদ্যুৎ : টেকনাফে ১৩ ঘন্টা লোডশেডিং কেন? «» আজ বিশ্ব মা দিবস «» টেকনাফে দেড় কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার «» গণতন্ত্রের জন্য ঈদের আগেই খালেদাকে মুক্তি দিন :জাফরুল্লাহ «» ১২ বছরের শিশুর পেটে আরেক শিশু! «» মিয়ানমারে ফের বিমান দুর্ঘটনা ! «» ফাইনালের আগেই যে পরিবারের আইপিএল ট্রফি নিশ্চিত! «» ১৫ মে দেশে ফিরছেন ওবায়দুল কাদের «» ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ আদালতর «» মধ্যরাতে ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানবে ‘ফণী’ «» ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে এইচএসসির শনিবারের সব পরীক্ষা ১৪ মে «» চট্টগ্রামে ৬ ও কক্সবাজারে ৪ নম্বর বিপদ সংকেত «» লেদার ইয়াবা কারবারী তাহেরের বাড়ি হতে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩ «» টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদে মানবাধিকার বিষয়ে একলাবের মত বিনিময় সভা অনুষ্টিত «» টেকনাফের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদোন্নতি পেয়ে রামুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হওয়ায় টেকনাফ সাংবাদিক সমিতির বিদায় সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত «» জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযান, গোলাগুলি-বিস্ফোরণ «» ৭ মে থেকে রোজা শুরু হতে পারে «» আজ ভয়াল সেই ২৯ এপ্রিল «» মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সৃষ্টি “আইএস” «» আগামী প্রজম্ম কে বাচাতে হলে মাদক প্রতিরোধে শ্রমিক মালিক সকল কে এগিয়ে আসতে হবে-আব্দুররহমান বদি «» গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় দুটি আইন আসছে: তথ্যমন্ত্রী «» উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকাস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন «» ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ঠেকাতে ৩২ উপজেলায় ইসির কমিটি «» হোয়াইক্যংয়ের খলিল ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আটক «» উনছিপ্রাং স্কুলে একলাবের সভা অনুষ্টিতঃ মানবাধিকার রক্ষায় সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান «» টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন : চেয়ারম্যান আলম ভাইস-চেয়ারম্যান ফেরদৌস ও তাহেরা নির্বাচিত «» বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্বে একটি রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী «» বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস:সিলযুক্ত ব্যাটল বাক্স উদ্ধার

স্বাধীনতা দিবস ও ইসলাম, এবং আমাদের করণীয়

 হাফেজ  মাও: মুফতি জসিম উদ্দিন টেকনাফী::                                                                                                                                                             ২৬ মার্চ বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের দিন। আমাদের স্বাধীনতার দিবস। মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হল, তার ভূখন্ড, মাতৃভূমিকে ভালবাসা। এটাই প্রিয় নবীজীর সা. এর উত্তম আদর্শ। মহানবী সা. যখন স্বীয় মাতৃভূমি মক্কা শরিফ ত্যাগ করে পাড়ি জমাচ্ছিলেন ইয়াছরিবের (মদীনার পূর্বনাম) প্রতি, তখন তাঁর চোখ থেকে অশ্রুর বন্যা বয়ে যাচ্ছিল এবং মনে মনে বলে ছিলেন, হে মক্কা! আমি তোমাকে ভালবাসি। কাফেররা নির্যাতন করে যদি আমাকে বের করে না দিত, কখনো আমি তোমাকে ত্যাগ করতাম না। [ইবনে কাসীর ৩/৪০৪]
হাদিসের বর্ণনায় আছে, নবীজী সা. মদিনা শরিফকে খুব ভালবাসতেন। কোন সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকালে মদিনার সীমান্তে ওহুদ পাহাড় চোখে পড়লে নবীজীর চেহারাতে আনন্দের আভা ফুটে উঠত এবং তিনি বলতেন, এই ওহুদ পাহাড় আমাদেরকে  ভালবাসে, আমরাও ওহুদ পাহাড়কে ভালবাসি। [বুখারি শরিফ ২/৫৩৯,৩/১০২৮, মুসলিম শরিফ ২/৯৯৩]
সুতরাং দেশপ্রেম, রাষ্ট্রের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা হচ্ছে মুসলমানদের চরিত্র। রাষ্ট্রের সাথে কোন সত্যিকার ঈমানদার গাদ্দারি করতে পারে না। সুতরাং এদেশের স্বাধীনতা দিবস আমাদের গৌরব, অহংকার। এখন জানার বিষয় হলো, বছরের চাকা ঘুরে যখন ২৬ মার্চ আসবে, তখন সে দিনগুলোতে কুরআন সুন্নাহর দৃষ্টিতে আমাদের করণীয় কী ?
বিজয় দিবস সম্পর্কে কুরআন কী বলে ?
প্রশ্ন জাগে, এ দিবসে কি করতে হবে, এটাও কি কুরআন বলে? হ্যাঁ, মানব জীবনে এমন কোন বিষয় নেই, যার বর্ণনা কুরআন সুন্নাতে নেই। স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কে কুরআনের দুটি সুরা আমাদের সামনে পড়ে। একটি সুরাতুল ‘ফাতাহ’ (বিজয়) আরেকটি সুরার নাম ‘আন-নাসর’ (মুক্তি ও সাহায্য)। সুরা নাসর-এ মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং বিজয় আসবে এবং দলে দলে লোকেরা ইসলামে প্রবেশ করবে,’ তখন মুসলমানদের কী করণীয় ? পবিত্র কুরআনের সূরায়ে নাসর-এ বিজয় দিবসের তিনটি কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে।
‘১. এই দিনে তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও বড়ত্ব বর্ণনা কর।২. আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর।
৩. মুক্তিযুদ্ধের সময়, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, জিহাদ চলাকালীন সময় যদি ভুল-ত্র“টি হয়ে থাকে, তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা চাও। স্বাধীনতা দিবসে এই তিনটিই আমাদের জাতীয় কর্মসূচী। ২৬ মার্চ যখন আসবে, মুসলমানদের জন্য আল্লাহর শাহী দরবারে বিনয় এবং নম্রতার সাথে শুকরিয়া প্রকাশ করা দরকার যে, হে আল্লাহ! হে মহামহিম! তুমি আমাদেরকে স্বাধীন ভূখন্ড দান করেছ, সে কারণে তোমার শুকরিয়া আদায় করছি, তোমার প্রশংসা করছি। তোমার দ্বারে কৃত গুনাহের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তুমি আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের হেফাজত কর। ইজ্জতের সাথে যেন এ বসুন্ধরায় টিকে থাকতে পারি, সে তাওফিক দান কর। এটাই হচ্ছে আমাদের আজকের দিনের শপথ এবং দোআ।
স্বাধীনতা দিবস সুন্নাহর দৃষ্টিতে:
স্বাধীনতা দিবসের করণীয় সম্পর্কে আল্লাহর নবীর আদর্শ কী ছিল ? যে মক্কা নগরী থেকে আল্লাহর নবী বিতাড়িত হলেন, ১০ বছর পর শত-সহস্র সাহাবায়ে কেরামের বিশাল বহর নিয়ে যখন পবিত্র মক্কা নগরীতে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি বিজয় মিছিল-শোভাযাত্রা কিছুই করেননি। গর্ব-অহংকার করেননি, বাদ্য-বাজনা বাজাননি। নবীজীর অবস্থা কি ছিল ? আল্লামা ইবনুল কাইয়িম জাওযী রহ. (মৃত ৫৯৭) তার কালজয়ী-অনবদ্য গ্রন্থ “যাদুল মাআদে” উল্লেখ করেন, আল্লাহর নবী একটি উষ্ট্রীর উপর আরোহণাবস্থায় ছিলেন, তাঁর চেহারা ছিল নিম্নগামী। (অর্থাৎ, আল্লাহর দরবারে বিনয়ের সাথে তিনি মক্কায় প্রবেশ  করেন) সর্বপ্রথম তিনি উম্মে  হানীর ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে আট রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। এই নামাজকে বলা হয় বিজয়ের নামাজ। এরপর নবীজী সা. হারাম শরিফে এসে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, হে মক্কার কাফের সম্প্রদায় ! তের বছর ধরে আমার উপর, আমার পরিবারের উপর, আমার সাহাবাদের উপর নির্যাতনের যে স্টিম রোলার চালিয়েছ, এর বিপরীতে আজকে তোমাদের কি মনে হয়, তোমাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব? তারা বলল, হ্যাঁ, আমরা কঠিন অপরাধী। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, আপনি আমাদের উদার ভাই, উদার সন্তান, আমাদের সাথে উদারতা, মহানুভবতা প্রদর্শন করবেন। এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।
আল্লাহর নবী সা. বললেন- হ্যাঁ, আমি আজ তোমাদের সকলের জন্য হযরত ইউসুফ আ. এর মত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলাম। যাও তোমাদের থেকে কোন প্রতিশোধ নেওয়া হবেনা। [সুনানে বাইহাকীÑ৯/১১৮]
এখানেই ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব, অনবদ্যতা, অনন্যতা। শান্তিপূর্ণভাবে মক্কা বিজয় করে মহানবী সা. পুরো বিশ্বকে এই ম্যাসেজ দিলেন যে, আমরা শান্তির পক্ষে, বোমাবাজি, খুনাখুনি, ত্রাস এবং লুন্ঠনের  বিপক্ষে।
এগুলো কি?
আমরা বুঝতে পারলাম যে, স্বাধীনতা দিবসে আমাদের করণীয় হল, বিজয়ের আট রাকাত নামাজ আদায় করা, শত্র“র প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন করা ইত্যাদি। কিন্তু স্বাধীনতার দিন যখন আসে, আমরা ফুলের তোড়া নিয়ে শহিদ মিনারে দৌড় দেই। প্রশ্ন জাগে, এটা কি কুরআনের আদর্শ? না নবীজীর চরিত্র ? কবরস্থানে ফুল দেওয়া, পুস্পস্তবক অর্পণ, নীরবতা পালন এগুলো পাশ্চাত্য সভ্যতার নিদর্শন। খ্রীস্টানরা কবর জিয়ারত করেনা, বরং ফুলের তোড়া দেয়। আমাদের এত সোনালী অতীত থাকা সত্বেও  কোন দুঃখে আমরা তাদের অন্ধ অনুকরণে মেতে উঠেছি ? আ্ল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।
আসুন একটু ভাবি!
স্বাধীনতার ৪২ বছরে আমাদের সফলতা এবং প্রাপ্তির হিসাবটা একটু কষি। দুর্নীতি, অন্যায় ছাড়া আর কিছুই নেই। তাই স্বাধীনতার দিনে দল-মত নির্বেশেষে আসুন শপথ গ্রহণ করি, আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ ঘোষণা করি, চোরদের বিরূদ্ধে, দুর্নীতিবাজদের বিরূদ্ধে, লুঠেরাদের বিরূদ্ধে। যদি সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে ঘৃণা করি, তাহলে এটা হবে দুর্নীতির বিরূুদ্ধে বড় মুক্তিযুদ্ধ। দেশকে দুর্নীতির আগ্রাসন থেকে, সন্ত্রাসের করাল গ্রাস থেকে, শকুনের শ্যোনদৃষ্টি থেকে মুক্ত করে সারা পৃথিবীতে মুসসলমানদের এই দেশকে উজ্জ্বল করাই হোক স্বাধীনতা দিবসের দৃপ্ত শপথ।
 হাফেজ  মাও: মুফতি জসিম উদ্দিন টেকনাফী ,শিক্ষক: আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম চাকমারকুল রামু,কক্স বাজার।

 

(10) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।