,

সংবাদ শিরোনাম :
«» আমিরাতে সৌদির তেলবাহী জাহাজে হামলা «» অতিরিক্ত গরমে টেকনাফে ভাইরাস জর ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব «» উখিয়ায় ২১ ঘন্টা বিদ্যুৎ : টেকনাফে ১৩ ঘন্টা লোডশেডিং কেন? «» আজ বিশ্ব মা দিবস «» টেকনাফে দেড় কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার «» গণতন্ত্রের জন্য ঈদের আগেই খালেদাকে মুক্তি দিন :জাফরুল্লাহ «» ১২ বছরের শিশুর পেটে আরেক শিশু! «» মিয়ানমারে ফের বিমান দুর্ঘটনা ! «» ফাইনালের আগেই যে পরিবারের আইপিএল ট্রফি নিশ্চিত! «» ১৫ মে দেশে ফিরছেন ওবায়দুল কাদের «» ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ আদালতর «» মধ্যরাতে ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানবে ‘ফণী’ «» ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে এইচএসসির শনিবারের সব পরীক্ষা ১৪ মে «» চট্টগ্রামে ৬ ও কক্সবাজারে ৪ নম্বর বিপদ সংকেত «» লেদার ইয়াবা কারবারী তাহেরের বাড়ি হতে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩ «» টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদে মানবাধিকার বিষয়ে একলাবের মত বিনিময় সভা অনুষ্টিত «» টেকনাফের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদোন্নতি পেয়ে রামুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হওয়ায় টেকনাফ সাংবাদিক সমিতির বিদায় সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত «» জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযান, গোলাগুলি-বিস্ফোরণ «» ৭ মে থেকে রোজা শুরু হতে পারে «» আজ ভয়াল সেই ২৯ এপ্রিল «» মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সৃষ্টি “আইএস” «» আগামী প্রজম্ম কে বাচাতে হলে মাদক প্রতিরোধে শ্রমিক মালিক সকল কে এগিয়ে আসতে হবে-আব্দুররহমান বদি «» গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় দুটি আইন আসছে: তথ্যমন্ত্রী «» উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকাস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন «» ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ঠেকাতে ৩২ উপজেলায় ইসির কমিটি «» হোয়াইক্যংয়ের খলিল ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আটক «» উনছিপ্রাং স্কুলে একলাবের সভা অনুষ্টিতঃ মানবাধিকার রক্ষায় সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান «» টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন : চেয়ারম্যান আলম ভাইস-চেয়ারম্যান ফেরদৌস ও তাহেরা নির্বাচিত «» বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্বে একটি রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী «» বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস:সিলযুক্ত ব্যাটল বাক্স উদ্ধার

আজিজী কাননের সর্বশেষ পুষ্প…আল্লামা ইসহাক সদর সাহেব (রহ.)

download টেকনাফ নিউজ২৪ডটকম বদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম যৌবনের গান প্রবন্ধে যুবকের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, প্রায় একশ বছর বয়স্ক আল্লামা শাহ ইসহাক সদর সাহেব (রহ.) ছিলেন তাঁরই নিখুঁত রূপ। তার ভেতরে ঢাকা ছিল যৌবনের তেজস্বী সূর্য। জীবন সায়‎ে‎হ্নও বার্ধক্য তার মানসকে স্পর্শ করেনি; আঁচড়ে লাগাতে পারেনি তাঁর মন-মননে। কাজের গতিশীলতা, চিন্তার প্রখরতা ও চিত্তের উত্তাপে টগবগে যুবাকেও তিনি হার মানাতেন। গত ২৪ জুলাই ২০১৩, ১৪ রমজান ১৪৩৪ হিঃ তিনি মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদেরকে চির এতিম করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। এ মুহুর্তে স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে হযরত হাসান বসরী (রহ.) এর ঐতিহাসিক উক্তি “একজন আলেমের মৃত্যু ইসলামের জন্য ছিদ্র স্বরূপ, যার পূর্ণতা কিয়ামত পর্যন্ত অন্য কোন বস্তু দ্বারা সাধিত হয় না”। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তিনি স্ত্রী, ৯ পুত্র, ৬ মেয়ে, নাতি-নাতনি ও দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য ছাত্র ও ভক্ত মুরিদান রেখে যান।  দণি চট্টলার প্রখ্যাত ও বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন, টেকনাফ উপজেলার ‎হ্নীলা আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া দারুস্সুন্নাহর শায়খুল হাদীস, পীরে কামেল আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইসহাক সদর সাহেবের মৃত্যু নিছক এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, ইসলামী জ্ঞানের এক বিশ্বকোষের যেন দুঃখজনক ইতি। ঊর্দূ, ফার্সি ও আরবী সাহিত্যে তিনি ছিলেন সুপন্ডিত। তাঁর মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় অপূরণীয় তি হলো এই যে, তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে উপ-মহাদেশের অন্যতম দ্বীনি বিদ্যাপীঠ আল-জামেয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কুতবে জমান আল্লামা মুফতী আজিজুল হক (রহ.) এর খলীফাদের ধারার পরিসমাপ্তি। জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ মাওলানা শাহ মুহাম্মদ ইসহাক (রহ.) ১৯১৬ সালে টেকনাফ উপজেলার ‎হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব সিকদার পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মাওলানা আবদুর রউফ, মাতার নাম ছুরফুন্নেছা। তাঁর আরো ২ ভাই ও ৪ বোন ছিলেন। লেখাপড়ার হাতেখড়িঃ লেখাপড়ার হাতেখড়ি নিজ গ্রামেই। ১৯২১ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি প্রাথমিক লেখাপড়া শুরু করেন তাঁর পারিবারিক মাদরাসায়। ১৩৪৭ হিজরী মোতাবেক ১৯২৭ ইংরেজীতে মরহুম শাহ আবুল মনজুর (রহ.) ‎হ্নীলা দারুস্সুন্নাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করলে তিনি সেখানে ভর্তি হন। পরে বাঁশখালী পুইছড়ী সরকারী মাদরাসায় ভর্তি হন। তখন সরকারী নেসাব ও কওমী নেসাব প্রায় এক ও অভিন্ন ছিল। সেখান থেকে জমাতে উলা (ফাজিল) পাশ করেন। দারুল উলুম দেওবন্দেঃ দারুল উলুম দেওবন্দ একটি আন্দোলন। ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দ থানায় প্রতিষ্ঠিত মহাকালের সাী মুসলিম তাহজীব-তামাদ্দুনের রাকবচ হিসেবে শত বর্ষের উপরে পাক-ভারক বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ধর্মীয় মুরব্বীর দায়িত্ব পালনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে যে প্রতিষ্ঠান, তার নাম দারুল উলুম দেওবন্দ। এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের আকাবিরদের পদচারণায় মুখরিত ছিলো প্রতিষ্ঠার পর থেকেই। আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইসহাক সদর সাহেব (রহ.) তখন বাঁশখালীর পুইছড়ী সরকারী মাদরাসায় অধ্যয়নরত ছিলেন। ইতিমধ্যেই তার সাথে পরিচয় হয় কুতবে জামান আল্লামা মুফতী আজিজুল হক (রহ.) এর সাথে। আস্তে আস্তে হযরতের সাথে তাঁর পরিচয় অন্তরঙ্গতায় পৌঁছে। মুফতী সাহেব (রহ.) তার মধ্যে যোগ্যতা ও প্রতিভার ঝলক দেখতে পেয়ে তাঁকে পরামর্শ দিলেন যে, তুমি দারুল উলুম দেওবন্দে চলে যাও। আপন শায়খের অনুপ্রেরণায় তিনি পাড়ি জমান আকাবিরদের স্মৃতিবিজড়িত আযহারুল হিন্দ দারুল উলুম দেওবন্দে। দেওবন্দে তিনি দাওরায়ে হাদীসের (সমাপনী বর্ষে) হাদীসের বিখ্যাত বিশুদ্ধ ছয় গ্রন্থ ও তাফসীরের জ্ঞান অর্জন করেন। দেওবন্দে তিনি বৃটিশ হটাও আন্দোলনের অগ্রসেনানী, আওলাদে রাসূল (সঃ) সাইয়্যিদ আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) এর সান্বিধ্যে কুরআন-হাদীসের বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করেন। দেওবন্দে তিনি অন্যান্য যেসব হীরকতূল্য শিকদের কাছে পড়েছেন, শায়খুল আদব মাওলানা ইজাজ আলী, মাওলানা ইবরাহীম বলিয়াভী (রহ.)। দেওবন্দে তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন ফকীহুল মিল্লাত মুফতী আবদুর রহমান, আল্লামা শাহ আহমদ শফী, মাওলানা নুরুল ইসলাম জর্দীদ (রহ.) প্রমুখ।   আধ্যাত্মিক সাধনাঃ  ইলমে জাহেরীর সাথে সাথে ইলমে বাতেনী, তথা তাসাউফ-সুলুকের রাজপথেও ছিল তাঁর সবর পদচারণা। কুতবে যমান আল্লামা মুফতী আজিজুল হক (রহ.) এর তত্ত্বাবধানে শুরু করেন তাসাউফের রাজপথে পদচারণা শুরু হয় তার কঠোর সাধনা-সংগ্রাম। অবঃশেষে কঠোর মেহনত মোজাহেদার মাধ্যমে তাসাউফের তীরে তরী ভেড়াতে সম হন তিনি। খেলাফত লাভে ধন্য হন কুতবে যমান আল্লামা মুফতী আজিজুল হক (রহ.) এর কাছ থেকে। তাসাউফের ময়দানে তাঁর সহপাঠী ছিল, আল্লামা সোলতান আহমদ নানুপুরী (রহ.), আল্লামা আলী আহমদ বোয়ালভী, আল্লামা নুরুল ইসলাম কদীম, (রহ.) আল্লামা হোসাইন আহমদ (রহ.) (প্রকাশ বড় হুজুর), আল্লামা বজলুস সোবহান (রহ.)। তাঁর খলীফাবৃন্দঃ  তিনি ছিলেন নিভৃতচারী এক মহান জ্ঞানসাধক। তাঁর হাজার হাজার ভক্ত মুরীদ দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাদের সবার তালিকা সংগ্রহ করা সম্ভবপর হয়নি। আংশিকভাবে তাদের কয়েজনের নাম উল্লখ করা হলো…  ১. শায়খুল ইসলাম আশ্-শায়খ মুফতী আবদুল হালীম বোখারী। ২. মাওলানা আখতর কমাল (সুফি)। ৩. মাওলানা জোনাইদ (দওম সাহেব) ৪. মাওলানা রফিক উল্লাহ। ৫. হাফেজ ইলিয়াছ। ৬. মাওলনা আমান উল্লাহ। ৭. মুফতী বুরহান উদ্দিন। ৮. মুফতী ইউনুছ। ৯. মাওলানা রিদুয়ান (ঝাপুয়া)। ১০. মাওলানা আবদুল কদির সহ আরও অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম। জামেয়া পটিয়ায়ঃ লেখাপড়া শেষ করে দেওবন্দ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর শিকতা দিয়েই প্রবেশ করেন কর্মজীবনে। তাঁর প্রথম কর্মস্থল উপমহাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ আল-জামেয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া। কুতবে যমান আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) এর আহবানে ১৯৪৭ সালে যোগদান করেন জামিয়া পটিয়ায়। সেখানে তিনি প্রায় দশ বছর অত্যন্ত দতার সাথে শিা দান করেন। পটিয়া মাদরাসায় তার ছাত্রদের তালিকা অনেক দীর্ঘ। তাঁর সান্বিধ্যে হাজার হাজার মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুফতি আদর্শবান লেখক, বক্তা ও রাজনীতিবিদ তৈরী হয়েছেন। তাঁর রচনাবলীঃ স্বীয় শায়খ মুফতী আজিজুল হক (রহ.) এর আদর্শ ও কর্মময় জীবনের সংপ্তি বর্ণনা দিয়ে রচনা করেছেন ২ খন্ডের অনবদ্য সংকলন কামালাতে আজীজ। এছাড়াও তাঁর কয়েকটি পুস্তিকার উল্লেখ পাওয়া যায়। জামেয়া দারুস্সুন্নাহ ‎হ্নীলায় যোগদানঃ  ১৯৫৭ সালে তিনি পটিয়া মাদরাসা থেকে চলে আসেন এবং নিজ পৈত্রিক নিবাস ‎হ্নীলা দারুস্সুন্নাহ মাদরাসায় সদরে মুহতামিম ও প্রধান মুফতী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এ মাদরাসার শায়খুল হাদীসের পদও অলংকৃত করেন। তিনি আমৃত্যু অত্র জামেয়ায় প্রায় ৫৬ বছর শায়খুল হাদীস, সদরে মোহতামিম ও প্রধান মুফতির দায়িত্ব পালন করেন। ‎হ্নীলা মাদরাসার কথা আসলেই অবধারিতভাবে চলে আসত সদর সাহেব (রহ.) এর নাম। সদর সাহেব (রহ.) এবং ‎‎হ্নীলা মাদরাসায় যেন সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুতে সবচেয়ে তিগ্রস্থ হলো উক্ত প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানে তিনি যোগদানের পর থেকে বোখারী শরীফ উভয় খন্ডের পাঠদান করে আসছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় হেদায়া, সিরাজী, নুরুল ইজাহ প্রভৃতির দরস প্রদান করেন। তাঁর জীবনের কিছু অলৌকিক ঘটনাঃ  তাঁর জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে- সুন্নাতে রাসূলের অনুসরণ। প্রবাদ আছে, সুন্নাতের উপর দৃঢ়তা অনেক কারামতের উর্ধ্বে। তিনি সর্বদা দ্বীনের উপর এত শক্তভাবে অটল থাকতেন, যা আমাদের মত দূর্বল ঈমানদারদের পে কল্পনা করাও রীতিমত অসম্ভব। রাস্তা-ঘাটে যেখানেই সফর করতেন, নামাজের সময় হলে ঠিকই দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে নিতেন। কোনদিনও জামাত ত্যাগ করার প্রশ্নই আসেনা। এই বৃদ্ধ বয়সেও ঠিকই আদায় করে নিতেন তাহাজ্জুদের নামাজ। শেষ বয়সে তিনি দাঁড়াতে পারতেন না। অন্যের সাহায্যে চলাফেরা করতেন। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে- নামাজের সময় হলেই তিনি সুস্থ-সবল মানুষের মত ঠিকই দাড়িয়ে যেতেন এবং নামাজ আদায় করে নিতেন। কিন্তু নামাজ সমাপ্ত হওয়ার পর আর দাঁড়াতে সম হতেন না। সম্প্রতি সিএইচসিআর হাসপাতালে হুজুরকে যেখানে রাখা হয়েছিল, সেখানে আজানের শব্দ পৌঁছত না। কিন্তু আজানের সময় হলে যেন তাঁকে কুদরতীভাবে জানিয়ে দেয়া হতো।  একটি ঘটনা! তার এলাকায় প্রসিদ্ধ আছে যে, মরহুম সদর সাহেব (রহ.) নিজে নিজে কুরআন মজীদের হেফজ করেছেন। এরপর তিনি পটিয়া মাদরাসা থেকে হেফজের সনদ অর্জন করেন। হুজুরের খলিফা মুফতী বুরহান উদ্দীন সাহেব বর্ণনা করেন যে, একবার হুজুর হ্নীলা থেকে টেকনাফ যাওয়ার পথে একটি গাড়ীকে থামার জন্য সিগন্যাল দিলেন। গাড়ীটি ছিল ট্যুারিষ্টদের। কিন্তু তারা হুজুরকে না উঠিয়ে গাড়ী স্ট্যার্ট দিতে চাইল। কিন্তু আজব ব্যাপার! গাড়ী আর স্ট্যার্ট হচ্ছে না। পরে আবার তারা হুজুরের কাছে মা চাইলে হুজুর বলল, যাও যাও, আমি তোমাদের জন্য বদ দোআ করিনি। এরপরেই গাড়ী স্ট্যার্ট হয়ে গেল। এরকম আরো হুজুরের অলৌকিক ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়।   সন্তান-সন্তনিঃ বর্তমানে হুজুরের জীবিত সন্তান-সন্ততি সংখ্যা, ৯ পুত্র ও ৬ মেয়ে। তন্মধ্যে মাওলানা আব্দুর রহমান ও মাওলানা আব্দুল আজীজ বর্তমানে হ্নীলা মাদরাসায় সিনিয়র শিক হিসেবে কর্মরত আছেন। মাওলানা আতাউর রহমান, তিনি দুবাইপ্রবাসী। মাওলানা হাবীবুর রহমান বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োজিত আছেন। হুজুরের অন্য ছাহেবজাদারা হলেন, মাহবুব, আতিক, আব্দুল্লাহ, আব্দুল কুদ্দুস, ও ইমরান। মৃত্যু ও জানাযাঃ তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৮ জুলাই সোমবার আছরের নামাজের জন্য অজুরত অবস্থায় আসস্মিক তিনি ঢলে পড়েন। সে দিন থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা দিনদিন অবনতি ঘটতে থাকলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কক্সবাজার আল-ফুয়াদ হাসপাতাল হয়ে ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম সিএসসিআর কিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসকদের দেয়া তথ্য মতে, বয়োবৃদ্বাবস্থায় তিনি রক্তশূণ্যতা, হার্ট ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় তার শরীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে জানান। কিছুদিন তাকে চট্রগ্রামের সিএসসিআর এর কিনিকে নিবিঢ় পর্যবেণে (আইসিইউ) রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত গত ২৪ জুলাই বুধবার দুপুর আড়াইটায় পুরো মুসলিম উম্মাহকে ইয়াতীম করে তিনি পরপারের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। হুজুর ইনতেকার করেন দুপুর আড়াইটায়। তাঁর মৃত্য সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে পুরো হ্নীলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। হুজুরের ছাত্র ভক্তদের আহাজারীতে ভারী হয়ে হ্নীলার আকাশ-বাতাস। সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা জড়ো হতে থাকে হ্নীলা মাদরাসায়। হুজুর সিএসসিআরে ইন্তেকাল করার পর পটিয়া মাদরাসায় গোসল ও কাফন দেওয়া হয়। এরপর যখন পটিয়া মাদরাসা থেকে হ্নীলা নিয়ে আসা হচ্ছিলো, তখন পথে পথে জনতার ঢল নেমেছিল। ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জামিয়া লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। জোহরের পর যখন লাশ জানাযার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো, তখন পুরো হ্নীলায় জনতার ঢল নেমেছিলো। যেদিকে চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। পুরো জানাযার মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই ছিলোনা। বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীগণ, সরকারী দলের রাজনৈতিকবৃন্দ, বিরোধী দলের রাজনৈতিকবৃন্দ, সকল মতের উলামা-মাশায়েখের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণ, এমন লাধিক জানাযার নামাজ পুরো দণিাঞ্চলে কখনো অনুষ্ঠিত হয়েছে কিনা তা এলাকার বৃদ্ধরা পর্যন্ত ম্মরণ করতে সম হচ্ছিলেন না। ঠিক দুপুর আড়াইটাই হুজুরের সুযোগ্য বড় সাহেবজাদা, হ্নীলা দারুসসুন্নাহর সুযোগ্য শিক মাওলানা আব্দুর রহমান এর ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁকে তার পারিবারিক করবস্থানে মরহুম আলহাজ্ব শাহ আবুল মনজুর (রহ) এর পাশে লাখো মানুষের চোখের পানিতে দাফন করা হয়। এভাবেই ঝরে গেল আজিজী কাননের সর্বশেষ পুষ্পটিও, যে ফুলের সৌরভে মুখরিত হয়েছিলো দেশ-বিদেশ, যার সুগন্ধি মুগ্ধ করেছিলো পুরো মুসলিম উম্মাহকে। বাংলাদেশ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে হারিয়েছে শায়খুল হাদীস আল্লামা আযিযুল হক, বাংলার বাঘ মুফতি ফজলুল হক আমিনী, আল্লামা ইসহাক গাজী, আল্লামা নুরুল ইসলাম কদীম, আল্লাহ শাহ আইয়ূব (রহ.), আল্লামা নুরুল ইসলাম জদীদ, আল্লামা মু’তাসীম বিল্লাহ প্রমুখ প্রতিথযশা ব্যক্তিদের। ধারাবাহিক সেই মৃত্যুর মিছিলে সবশেষে যুক্ত হলেন আকাবিরদের মূর্ত প্রতিচ্ছবি, সদা হাস্যোজ্জ্বল নূরানী চেহারার অধিকারী, ব্রিটিশ-পাক-বাংলা আমলের অসংখ্য উত্থান-পতনের প্রত্যদর্শী, জীবন্ত ইসলামি বিশ্বকোষ, শায়খুল হাদীস আল্লাহ শাহ মুহাম্মদ ইসহাক সদর সাহেব (রহ.)। উত্তরসুরীদের সামনের খোলা পথে ঘোর অমানিশার হাতছানি; এক-এক করে নিভে যাচ্ছে প্রদীপ; পরপারের যাত্রীদের কাফেলা হচ্ছে ভারী। যারা বিদায় হয়ে যাচ্ছেন তাঁদের আসন পূরণ হবে কিনা জানিনা। সদর সাহেব হুজুরকে হারানোর বেদনায় অস্থির হাজার হাজার ওলামা-মাশায়েখ ও অসংখ্য গুণগ্রাহী আম-জনতা। পরিশেষে, হে আল্লাহ! হে মহা-মহিম! আপনার এই প্রিয় বান্দাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন! আপনার এই প্রিয় বান্দাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নবী করুন! আপনারই এক প্রিয় বান্দা ড. ইকবালের ভাষায় বলব, “আকাশ যেন তাঁদের সমাধিতে শিশির করে বর্ষণ, সেই ঘরের যেন যতœ করে চিরকাল সবুজের আবরণ”। আমরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর, আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলের সহায় হোন। আমীন। ########

 হাফেজ মাওলানা রিদওয়ানুল কাদির উখিয়াভী মোবাইল নং- ০১৮১২-৭৬৬৮৯৩#

টেকনাফের হ্নীলায় লক্ষাধিক মুসল্লীর উপস্থিতিতে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাযা

টেকনাফের হ্নীলায় লক্ষাধিক মুসল্লীর উপস্থিতিতে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাযা শেষে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন স্থানীয় হ্নীলা দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস পীরে কামেল আল্লামা শাহ মোঃ ইসহাক ছদর সা’ব হুজুরকে বৃহস্পতিবার বিকালে পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। জানাযার নামাজে অংশ নিতে আসা হুজুরের অগণিত ভক্ত, ছাত্র, মুরিদ, গুণগ্রাহীসহ সাধারণ মুসল্লীদের পদভারে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে দু’ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকাল আড়াইটায় উপজেলার হ্নীলা গার্লস স্কুল সংলগ্ন লবণমাঠে বড় পুত্র মাওলানা আবদুর রহমানের ইমামতিতে হুজুরের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা পূর্ব সমাবেশে হুজুরের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এড. শাহজালাল চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, ভাইস-চেয়ারম্যান এইচএম ইউনুচ বাঙ্গালী, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মীর কাশেম, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহমদ আনোয়ারী, চট্টগ্রাম দারুল মা’রিফ মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা সোলতান যওক নদভী, আল-বয়ান ইনষ্টিটিউটের মাওলানা মোহাম্মদ হারুন এবং হুজুরের পুত্র মাওলানা হাবিবুর রহমান প্রমূখ।
এছাড়া টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোজাহেদ উদ্দিন, টেকনাফ থানার অফিসার্স ইনচার্জ- মোঃ ফরহাদ, বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,আলেমে দ্বীন, সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলসহ ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লী জানাজায় অংশ নেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হুজুরের জানাযায় অংশ নিতে অগণিত মুসল্লীরা দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীবাহী ও প্রাইভেট যানযোগে হ্নীলা স্টেশন, দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা ও পূর্ব সিকদার পাড়াস্থ হুজুরের বাসভবনে সমবেত হতে থাকে এবং জোহরের নামাজের সময় পুরো এলাকা কানায় কানায় ভর্তি হয়ে যায়। মুসল্লীদের ঢল সামলাতে হ্নীলা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব অধ্যাপক জহির আহমদ ও সদস্য মুফিজুল আলমের নেতৃত্বে ওই এলাকায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক মুসল্লীদের নির্বিঘেœ চলাচলে সহায়তা দেয়। পৌনে দুইটায় জোহরের নামাজ শেষে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা ও স্থানীয় ৬শ’ দোকানদার তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে জানাযায় অংশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে হ্নীলা স্টেশনের উত্তর পাশের স্থানীয় গার্লস স্কুল সংলগ্ন লবণমাঠে সমবেত হতে থাকে। এসময় লাখো মুসল্লির পদভারে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে দু’ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল আড়াইটায় জানাযা নামাজ শেষে হুজুরের কফিন হ্নীলা দারুস মাদ্রাসার পশ্চিম পার্শ্বস্থ পারিবারিক গোরস্থানে নিয়ে এ মহান সাধককে সমাহিত করা হয়।
প্রসঙ্গত: বুধবার দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম সিএসসিআর ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৭ বছর বয়সী আল্লামা শাহ মোঃ ইসহাক ছদর সা’ব হুজুর ইন্তেকাল করেন।
বিভিন্ন মহলের শোক ঃ
উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক জগতের মহান সাধক আল্লামা শাহ মোহাম্মদ ইসহাক ছদর সা’ব হুজুরের ইন্তেকালে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি শোক প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছেন বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, সাবেক দু’সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. শাহজালাল চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, ভাইস-চেয়ারম্যান এইচএম ইউনুচ বাঙ্গালী, হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মীর কাশেম, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহমদ আনোয়ারী, সদর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব বাঙ্গালী, টেকনাফ প্রেসক্লাব আহবায়ক হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ সাংবাদিক সমিতি (টেসাস) সভাপতি মুহাম্মদ ছলাহ্ উদ্দিন, সম্পাদক হুমায়ূন রশিদ, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, সম্পাদক নুরুল বশর, বিএনপি সভাপতি সরওয়ার কামাল চৌধুরী, সম্পাদক এম আবদুল্লাহ এলএলবি, জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ নুরুল হোছাইন ছিদ্দিকী, সেক্রেটারী মাওলানা শফিকুর রহমান, জাতীয় পার্টির মাস্টার আবুল হোছাইন হেলালী, হ্নীলা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব অধ্যাপক জহির আহমদ, সদস্য মুফিজুল আলম, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফরিদুল আলম জুয়েল, সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুন্না, ছাত্রদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আলী মেম্বার, ছাত্রশিবিরের সভাপতি রবিউল আলম, সেক্রেটারী জাকারিয়া আলফাজ প্রমূখ।

(1207) বার এই নিউজটি পড়া হয়েছে

“আজিজী কাননের সর্বশেষ পুষ্প…আল্লামা ইসহাক সদর সাহেব (রহ.)” এ একটি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।